‘৪০ কোটিতে বিক্রি!’ মহুয়ার নিশানায় দেব-সায়নীরা, পাল্টা মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি শতাব্দীর

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঝেই এবার চরমে উঠল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ— কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এই বিস্ফোরক অভিযোগেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
মহুয়ার ‘৪০ কোটির’ তত্ত্ব: মহারাষ্ট্রের স্টাইলে দলবদলের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, এনডিএ (NDA) জোটে যোগ দেওয়ার জন্য বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের প্রত্যেকে ৪০ কোটি টাকার ‘ডিল’ করেছেন। এর মধ্যে ৪ কোটি টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা মাসিক কিস্তিতে মেটানো হচ্ছে।
পাল্টা মামলার পথে বিদ্রোহী সাংসদরা: মহুয়ার এই অভিযোগের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পাল্টা আসরে নেমেছে বিদ্রোহী শিবির। এই জনসমক্ষে সম্মানহানির বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলত্যাগী সাংসদ। বৈঠক শেষে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মহুয়া মৈত্র যেভাবে কুৎসা রটিয়ে তাঁদের সম্মানহানি করেছেন, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে এবার মানহানির মামলা করা হবে।
তালিকায় হেভিওয়েটরা: উল্লেখ্য, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া এই ২০ জন হাই-প্রোফাইল সাংসদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব (দীপক অধিকারী), সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান এবং পার্থ ভৌমিকের মতো হেভিওয়েটরা। মহুয়ার এই ‘৪০ কোটির ডিল’ বনাম শতাব্দী-কাকলিদের আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয়তা!