গড়িয়াহাট বাজারে সারপ্রাইজ ভিজিট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার, নোংরা পেলেই কড়া জরিমানা!

সোমবার সাতসকালে আচমকাই কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত গড়িয়াহাট বাজারে পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পুর দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে বাজারে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। মূলত শহরের বাজারগুলির অপরিচ্ছন্ন অবস্থা এবং অবৈধ দখলদারি রুখে নাগরিকদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতেই মন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপ। বাজার ঘুরে দেখার পর ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলায় কড়া নিয়ম
বাজারের প্রতিটি দোকান ঘুরে দেখে অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরই এবং সেখানে নোংরা থাকলেই কড়া জরিমানা গুনতে হবে। প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধভাবে দোকানের অংশ বাড়ানো হলে তা এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্লাস্টিক ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মন্ত্রী জানান, নিয়ম ভাঙলেই ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, থুতু বা প্রস্রাব করার ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। বাজারের ভেতরে যানজট রুখতে সাইকেল নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বাইরে নির্দিষ্ট সাইকেল স্ট্যান্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাজারে ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যেখান থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে ব্যাগ কেনা যাবে। পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রতিটি বাজারে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা শৌচালয়, জল-কাদায় পিছলে যাওয়া এড়াতে মেঝের উপর বড় স্ল্যাব এবং দোকানের মাঝে নিকাশি নালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাছ-মাংসের দোকানের নালা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং সাফাইকর্মীরা দিনে তিনবার গোটা বাজার পরিষ্কার করবেন। যত্রতত্র বিপজ্জনক ত্রিপল টাঙানোর বদলে শেড নির্মাণ এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গড়িয়াহাট থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ শহরের অন্যান্য বাজারে বাস্তবায়িত হলে তা বাজারগুলির সার্বিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সুরক্ষায় এক ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।