জ্বলছে বলিভিয়া! টানা ৫০ দিনের বিক্ষোভে থমকে দেশ, জারি ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা
বলিভিয়া: টানা ৫০ দিনের তুমুল বিক্ষোভে কার্যত অচল বলিভিয়া (Bolivia)। দেশজুড়ে চরম খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সংকটের জেরে বাধ্য হয়ে এবার দেশজুড়ে ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা (State of Emergency) জারি করলেন প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের রাস্তায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।
কেন জ্বলছে বলিভিয়া?
বাজেট ঘাটতি এবং চরম ডলার সংকট মেটাতে সম্প্রতি জ্বালানিতে দেওয়া দীর্ঘদিনের ভরতুকি তুলে নেন প্রেসিডেন্ট পাজ। এরপরেই দেশজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শ্রমিক সংগঠন, আদিবাসী গোষ্ঠী, কোকা চাষি ও সাধারণ মানুষ। মজুরি বৃদ্ধি এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হয় লাগাতার অবরোধ। বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ প্রাক্তন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থক। এই টানা আন্দোলনের জেরে বলিভিয়ার অর্থনীতি ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সংঘর্ষ, মৃত্যু ও চরম অচলাবস্থা:
গত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাস্তায় ইট-পাথর ও আবর্জনা ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেশের প্রধান সড়কগুলি।
- মৃত্যু: পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- গ্রেফতার ও আহত: পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন এবং ৩৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট: অবরুদ্ধ দেশের সুপারমার্কেটগুলি কার্যত ফাঁকা। হাসপাতালগুলিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অক্সিজেন ও ওষুধের অভাব।
কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের:
শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার ভোরে টেলিভিশনে কড়া বার্তা দেন প্রেসিডেন্ট। দেশবাসীকে তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে এভাবে অবরোধের বন্দি করে রাখা যায় না; এতে তাঁদের কাজ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সড়ক সচল করতে সরাসরি মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ ও সেনাকে। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৯০ দিন দেশজুড়ে সমস্ত ধরনের বিক্ষোভ বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং আইন ভাঙলে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।