ডাবল ইঞ্জিনের প্রথম বাজেট আজ! ঋণের পাহাড় সামলে কী ‘মার্শাল প্ল্যান’ অর্থমন্ত্রীর?

কলকাতা: ‘পরিবর্তনে’র পর আজ প্রথম রাজ্য বাজেট পেশ করতে চলেছে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের আগামী দিনের রোডম্যাপ কী হবে, সেদিকেই আজ তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আজ বেলা ১২টায় বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত।
ঋণের বিশাল বোঝা ও চ্যালেঞ্জ
পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই এই বাজেট পেশ হতে চলেছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের নিজস্ব প্রস্তাবিত আয় ১ লক্ষ ১২ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকাই চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণ ও তার সুদ মেটাতে। অর্থাৎ রাজ্যের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে ঋণ শোধে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আয় বাড়ানোই এখন অর্থমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলার পুনর্গঠনে ‘মার্শাল প্ল্যান’
বাজেট পেশের আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ (যিনি বাংলার প্রাক্তন বিধায়কও বটে) অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইউরোপকে ঢেলে সাজাতে যেমন ‘মার্শাল প্ল্যান’ নেওয়া হয়েছিল, অর্থমন্ত্রী তেমনই বাংলার পরিকাঠামো ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রের সাহায্যে সেরকমই এক মহাপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আজ পরিকাঠামো খাতে বিপুল বরাদ্দের ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এবারের বাজেটে নজরে থাকছে যা যা:
- সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA): সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে ডিএ নিয়ে বাজেটে বড় ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- শিল্প ও কর্মসংস্থান: বিনিয়োগ টানতে নতুন জমিনীতি, শিল্পস্থাপনে বিশেষ উৎসাহ ভাতা এবং স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন ডিউটির ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের আশায় বুক বাঁধছে শিল্প ও বণিকমহল।
- সামাজিক প্রকল্প: বিজেপির ইস্তাহার অনুযায়ী, আগের সরকারের কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না। বরং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ইতিমধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অনুদান দ্বিগুণ করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে নতুন সরকার।
অর্থমন্ত্রী অবশ্য আগেই জানিয়েছেন যে, এই বাজেটটি চলতি অর্থবর্ষের বাকি থাকা মাত্র ৮ মাসের জন্য। তাই অল্প সময়ে পুরো রোডম্যাপ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে কীভাবে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক প্রকল্পগুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, আজ বিধানসভায় সেই কঠিন ধাঁধারই উত্তর খুঁজবে বাংলা।