পিএসি কার দখলে? বিধানসভায় সম্মুখসমরে কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির

কলকাতা: বিধানসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC) গঠন ঘিরে এবার বেনজির রাজনৈতিক তরজার আভাস। চেনা শাসক বনাম বিরোধী নয়, এবার লড়াইয়ের ময়দানে মুখোমুখি বিভক্ত তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’ বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’।

নতুন সরকারের আমলে পিএসি গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই বিধানসভায় রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছে দুই শিবিরের মধ্যেই।

পিএসি নিয়ে কেন এত জল্পনা?

সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রথা অনুযায়ী, বিধানসভার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই কমিটির চেয়ারম্যান পদটি সাধারণত প্রধান বিরোধী দলের হাতেই যাওয়ার কথা। কিন্তু বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সেই প্রথা ভেঙে মুকুল রায়, মানস ভুঁইয়া বা সুমন কাঞ্জিলালের মতো খাতায়-কলমে বিরোধী কিন্তু আদতে ‘তৃণমূলপন্থী’ বিধায়কদের এই পদে বসানো হতো। এর প্রতিবাদে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি দীর্ঘদিন পিএসি-র বৈঠক বয়কট করেছিল। এবার সেই পিএসি গঠন নিয়েই ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

কী হতে চলেছে বিধানসভায়?

  • সদস্য সংখ্যা: পিএসি-তে চেয়ারম্যান-সহ সর্বাধিক ২০ জন সদস্য থাকতে পারেন।
  • মনোনয়ন জমা: এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি নিজেদের দখলে রাখতে কালীঘাট এবং ঋতব্রত— দুই শিবিরই জোরকদমে তাদের বিধায়কদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
  • ভোটাভুটির সম্ভাবনা: রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ২০টি আসনের জন্য যদি তার চেয়ে বেশি সংখ্যক মনোনয়ন জমা পড়ে, তবে বিধানসভার অন্দরে ভোটাভুটি একপ্রকার অনিবার্য।
  • ভোটের দিনক্ষণ: ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী ৫ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে।

বিধানসভার অলিন্দে এখন একটাই চর্চা— দুই ‘তৃণমূল’-এর এই স্নায়ুযুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসবে, আর পিএসি-র রাশ কার হাতে উঠবে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *