টাকা নিলেন দলের আর এখন তুলছেন প্রশ্ন, ঋতব্রতর নির্বাচনী খরচের খতিয়ান ফাঁস করে তোপ কুণালের

টাকা নিলেন দলের আর এখন তুলছেন প্রশ্ন, ঋতব্রতর নির্বাচনী খরচের খতিয়ান ফাঁস করে তোপ কুণালের

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিতর্ক এবং দলীয় অর্থ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলমান দ্বন্দ্ব এবার এক নতুন মোড় নিল। দল থেকে ‘বহিষ্কৃত’ এবং বর্তমানে বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী খরচের হিসাব প্রকাশ্যে এনে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে নির্বাচনে খরচ করার পর, এখন সেই অ্যাকাউন্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ঋতব্রতর চরম ‘দ্বিচারিতা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফাঁস হলো নির্বাচনী খরচের খতিয়ান

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ তথ্যসহ দাবি করেন, উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তাঁর নির্বাচনে মোট খরচ হয়েছিল ২৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩৬ টাকা। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই খরচের সিংহভাগ অর্থাৎ ২৫ লক্ষ টাকাই দেওয়া হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, যে দলীয় তহবিলের টাকা ব্যবহার করে ঋতব্রত নির্বাচনে জিতলেন, আজ কোন নৈতিকতায় তিনি এবং অন্যান্য বিদ্রোহী বিধায়করা দলের সেই অ্যাকাউন্ট ও টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করছেন?

আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার আশঙ্কা

সম্প্রতি বিদ্রোহী বিধায়কদের সক্রিয়তায় তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি তহবিল রয়েছে। এই আর্থিক ধাক্কার আবহেই কুণাল ঘোষ ঋতব্রতকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, যদি দলের ওই অর্থ অবৈধই হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ ব্যবহার করে জেতা নির্বাচনের বৈধতাও সংকটে পড়ে। ফলে নৈতিকতার খাতিরে ঋতব্রতর উচিত অবিলম্বে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া এবং দলের ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া।

এই বিতর্কের রেশ টেনে তিনি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। কুণাল ঘোষ সাফ জানান, তৃণমূলের টিকিটে জিতে যাঁরা এখন ভিন্ন রাজনৈতিক পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন, রাজনৈতিক সৌজন্য মেনে তাঁদের প্রথমেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শংসাপত্র ফেরত দেওয়া উচিত। এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির জেরে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনই ব্যাঙ্কের বিপুল অর্থ ও আইনি লড়াইয়ে দল আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *