সোমবার শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট! মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় ঘোষণার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী

আগামী ২২ জুন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট পেশ হতে চলেছে। বিধানসভায় দুপুর ১২টায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই আর্থিক বিবৃতি পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলির পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
ডিএ ব্যবধান কমানো ও সপ্তম বেতন কমিশন
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পেলেও, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই ৪২ শতাংশের বিশাল ব্যবধান নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। এই ক্ষোভ প্রশমনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র এই ফারাক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদনও মিলেছে, যা সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব
বাজেটের ঠিক আগে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের দিল্লি যাত্রা এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ও নীতি আয়োগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এই বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাজেটে সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ডিএ বৃদ্ধি, যুবকদের কর্মসংস্থান ও কৃষক কল্যাণমূলক কর্মসূচির ঘোষণা এবং অন্যদিকে রাজ্যের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বাজেটে ডিএ বৃদ্ধি এবং বকেয়া মেটানোর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলে তা রাজ্য সরকারি কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাবে, তবে এর ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অফিশিয়াল ঘোষণার জন্য মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল সকলকে বাজেট পেশ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।