উদ্ধব শিবিরে চূড়ান্ত ধস, আজই শিন্ডের হাত ধরছেন ৬ বিদ্রোহী সাংসদ!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে পালাবদলের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার দুপুর তিনটেয় মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদ। লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের মোট ৯ জন সাংসদের মধ্যে একযোগে দুই-তৃতীয়াংশ দল ছাড়ায় তাঁরা অনায়াসেই দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া থেকে বেঁচে যাবেন। এই দলবদলের ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে উদ্ধব ঠাকরের দলের অস্তিত্ব কার্যত খাদের কিনারে এসে দাঁড়াল।
দলত্যাগের নেপথ্য কারণ
বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, গত দু’বছর বিরোধী আসনে থাকায় নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ মানুষের জন্য তাঁরা কোনও কাজ করতে পারেননি। উন্নয়নের ফান্ডের অভাব এবং ৫ কোটির সাংসদ তহবিলের সীমাবদ্ধতা তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এছাড়া, উদ্ধব শিবিরের নেতাদের একাংশের কদর্য আক্রমণ, প্রচারের ময়দানে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং পুরসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি তাঁদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। সাংসদ ওমরাজে নিম্বালকর জানিয়েছেন, তাঁর বাবার হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একনাথ শিন্ডের আশ্বাসের পরেই তিনি দলবদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই মেগা দলবদল মহারাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে উদ্ধব শিবিরের জন্য এক মারাত্মক ধাক্কা। উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনাকে ‘অপারেশন টাইগার’-এর ১০০ শতাংশ সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে একে উদ্ধব ঠাকরের একগুঁয়েমির ফল হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডেও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাঁর পরিচালিত শিবসেনাই আসল শিবসেনা। চারিদিকে ভাঙনের এই আবহে উদ্ধব ঠাকরে ময়দানে নেমে বিজেপিকে দুষে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে মহারাষ্ট্রের মারাঠা রাজনীতিতে শিন্ডে শিবির ক্রমশ তাদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করছে।