বন্ধুর খেসারত দিচ্ছে দেশ, মোদী-ট্রাম্প রসায়নে বিপন্ন ভারত ও বিশ্ব রাজনীতি! তোপ কংগ্রেসের

বন্ধুর খেসারত দিচ্ছে দেশ, মোদী-ট্রাম্প রসায়নে বিপন্ন ভারত ও বিশ্ব রাজনীতি! তোপ কংগ্রেসের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল চর্চিত পারস্পরিক ‘বন্ধুত্ব’ নিয়ে এবার তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের অতি-ঘনিষ্ঠতা কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেই সংকটে ফেলেনি, বরং বৈশ্বিক স্তরেও বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই নেতার ব্যক্তিগত সখ্যতার খেসারত দিতে হচ্ছে ভারতের সাধারণ মানুষকে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি—উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আমজনতার পকেটে টান ও আন্তর্জাতিক নীতির বিচ্যুতি

কংগ্রেসের বিশ্লেষণের মূল তীরটি রয়েছে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মোদী সরকারের বিদেশনীতির দিকে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নীতি বিশ্ববাজারে তেলের দামকে উস্কে দিয়েছে। আর নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অন্ধ বন্ধুত্বের খাতিরে সেই প্রভাব থেকে দেশের বাজারকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

একই সঙ্গে, এই ‘মাই গুড ফ্রেন্ড’ নীতি ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী জোট-নিরপেক্ষ বিদেশনীতিকে (Non-alignment Policy) খর্ব করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। জওহরলাল নেহেরুর আমল থেকে ভারত যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজস্ব স্বতন্ত্র মর্যাদা ধরে রেখেছিল, বর্তমান সরকারের অতি-আমেরিকা ঘেঁষা নীতি সেই ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে।

সবার মন জোগানোর চেষ্টা ও সম্ভাব্য প্রভাব

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিটি দেশের সঙ্গে কৃত্রিম সখ্যতা প্রদর্শনের এই নীতি ভারতের জাতীয় স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সবাইকে খুশি করার এই কৌশল শেষমেশ ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে, যা দেশের সার্বিক সুরক্ষাকবচকে আলগা করার শামিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আক্রমণের মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী সরকারের সফল বিদেশনীতির দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল বিরোধী শিবির। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধির যোগসূত্রকে মোদী-ট্রাম্প রসায়নের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে কংগ্রেস মূলত আমজনতার অর্থনৈতিক ক্ষোভকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে। এই চাপানউতোর আগামী দিনে দেশের কূটনৈতিক কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *