এবার ধস মমতার সংখ্যালঘু সেলে, ঋতব্রতর ‘আসল তৃণমূল’-এর পথে ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এবার জোড়াফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দলীয় সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের দাপুটে বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার সকালে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। রাজ্যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’ যখন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, ঠিক তখনই কালীঘাট শিবিরে এই বড় ধাক্কা লাগল।
পারিবারিক বাধ্যবাধকতার আড়ালে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
সাংবাদিক বৈঠকে মোশারফ হোসেন তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে পারিবারিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, তাঁর মা পবিত্র মক্কা নগরী থেকে হজ পালন করে ফেরার পর থেকে গুরুতর অসুস্থ, তাই এই মানসিক অবস্থায় তাঁর পক্ষে পদের দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয়। এই পারিবারিক কারণেই তিনি নতুন সরকারের প্রথম ঐতিহাসিক বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন বলেও জানান। তবে কেবল পারিবারিক কারণই নয়, এর পেছনে যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে তা-ও স্পষ্ট করেছেন বিধায়ক। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন যে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং উন্নয়নের স্বার্থে তিনি ওই শিবিরের সঙ্গেই চলছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুমধুর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোশারফ।
উত্তর দিনাজপুরে একঘরে কালীঘাট শিবির
এই ঘটনার ফলে উত্তর দিনাজপুর জেলায় সাংগঠনিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মূল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলার মোট পাঁচজন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে চারজন আগেই মমতা শিবিরের হাত ছেড়ে ঋতব্রতর ‘আসল তৃণমূল’-এ নাম লিখিয়েছিলেন। এবার পঞ্চম ও শেষ বিধায়ক হিসেবে মোশারফ হোসেনও কালীঘাট থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বিরোধী দলনেতার শিবিরের দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ায়, উত্তর দিনাজপুরে কার্যত পুরোপুরি মুছে যাওয়ার উপক্রম হলো মূল তৃণমূলের। এই দলবদল আগামী দিনে ওই অঞ্চলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।