ডিমহীন মিড ডে মিল নিয়ে তোলপাড় রাজ্য, নেপথ্যে কি তবে নিরামিষভোজী করার ছক?

কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ইসকন। আর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে প্রোটিনসমৃদ্ধ ডিম। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইসকনের রান্নাঘরে যেহেতু সম্পূর্ণরূপে নিরামিষ খাবার তৈরি হয়, তাই শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিষয়টিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজছে বিরোধী শিবির।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক তরজা
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, গুজরাতের ধাঁচে বাংলাকেও একটি নিরামিষভোজী রাজ্যে পরিণত করার সুকৌশল চেষ্টা চলছে। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতাদের মাছ খাওয়ার বিষয়টিকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, শিশুদের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে তাদের পাত থেকে ডিম কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আমিষ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেবে। যদিও সেই সময় বিজেপি নেতারা জনসমক্ষে মাছ খেয়ে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছিলেন। ডেরেকের দাবি, ক্ষমতায় এসেই বিজেপি নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
পুষ্টির বিকল্প ও সরকারের অবস্থান
ডিমের বদলে পড়ুয়ারা পর্যাপ্ত প্রোটিন পাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব দিয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ। কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমন দাস আশ্বস্ত করেছেন যে, ডিম বা মাংসের সমতুল্য প্রোটিনযুক্ত খাবারই শিশুদের দেওয়া হবে। তাদের নিরামিষ মেনুতে থাকবে সয়াবিন, পনির, রাজমা, ডাল এবং পুষ্টিকর সবজি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগের পক্ষে সওয়াল করে জানিয়েছেন, খাবারের গুণগত মান যথেষ্ট উন্নত এবং পাইলট প্রজেক্ট হিসেবেই এই দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব কেবল স্কুলের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ পড়ার এই ঘটনা রাজ্যের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি বড়সড় পরিবর্তন। এর ফলে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টির বিকল্প নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে, তেমনই রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও খাদ্যাভ্যাস ঘিরে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।