ঘুমন্ত নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুন, পুলিশের এনকাউন্টারে জখম অভিযুক্ত

দিল্লির বুকে ফের নারী ও শিশু নিরাপত্তার বেহাল দশা প্রকট হলো। ফুটপাত থেকে এক ১১ বছরের নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ এবং খুনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটল খাস রাজধানীতে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ট্যাক্সি চালক পুলিশের এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পাশবিক অপরাধ এবং তৎপরবর্তী পুলিশের পদক্ষেপ শহরের আইনশৃঙ্খলা ও ভাসমান মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অরক্ষিত ফুটপাত ও মর্মান্তিক পরিণতি
নিহত নাবালিকা দিল্লির রাস্তায় ফুলের বেলুন বিক্রি করত এবং রাতে ফুটপাতেই ঘুমোত। রবিবার রাতে সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করে বাবলু নামের এক ট্যাক্সি চালক। এরপর তাকে ধর্ষণ করে খুন করার পর মেহরৌলির জঙ্গলে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়। সকাল ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মেহরৌলি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করলে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল থেকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী দরিদ্র এবং শ্রমজীবী শিশুরা শহরে কতটা নিরাপত্তাহীনতার শিকার।
পালানোর চেষ্টা এবং পুলিশের এনকাউন্টার
মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অভিযুক্ত বাবলুকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মেহরৌলির সেই জঙ্গলে যায়। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তাদের হাত ছাড়িয়ে অন্ধকারে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে থামাতে বাধ্য হয়ে পুলিশ তার পা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশের তরফেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিল্লিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং অপরাধীকে ধরতে তৎপরতা অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হলেও, রাজধানীর বুকে এমন মর্মান্তিক অপরাধ বারবার প্রমাণ করছে যে সার্বিক নিরাপত্তার কাঠামোতে এখনও বড় ধরনের ফাঁক রয়েছে। বিশেষ করে রাতে ফুটপাতবাসী এবং ভাসমান মানুষদের সুরক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি আরও নিবিড় হওয়া প্রয়োজন।