লন্ডনের আদালতে বড় ধাক্কা খেলেন নীরব মোদি, এবার ফেরাতেই হবে ১০০ কোটি টাকা!

পলাতক ভারতীয় হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে লন্ডনের আদালতে। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে নেওয়া মোটা অঙ্কের ঋণ এবার সুদসমেত ফেরত দিতে হবে তাঁকে। লন্ডনের সার্কিট কমার্শিয়াল কোর্টের রায়ের ফলে আইনি পথেই নীরবের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে ভারতীয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করায় ব্রিটিশ আদালতের এই আর্থিক জরিমানার নির্দেশ এড়ানো তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ঋণের উৎস ও দীর্ঘ আইনি লড়াই
আইনি নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে দুবাইয়ের একটি সংস্থাকে ৪.১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এই সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন নীরব মোদি এবং ২০১৩ সালে তিনি এই ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হন। ২০১৮ সালে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতি কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ঋণের টাকা ফেরত চেয়ে দুবাইয়ের সেই সংস্থা ও নীরব মোদিকে নোটিস পাঠায়। কিন্তু নীরব মোদির পক্ষ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের বিচারপতি সাইমন টিঙ্কলার নির্দেশ দেন যে, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি অনুযায়ী নীরব মোদিকে মূল ঋণ ও নির্ধারিত হারের সুদ মিলিয়ে মোট ১০.৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১০০ কোটিরও বেশি।
প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব
লন্ডনের আদালতে এই লাগাতার ধাক্কা নীরব মোদির ভারতে প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ভারতে ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতে পারে—এমন অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যার্পণ মামলাটি নতুন করে খোলার আবেদন করেছিলেন এই হীরা ব্যবসায়ী। তবে লন্ডনের হাইকোর্ট তাঁর সেই আবেদন ইতিমধ্যে খারিজ করে দিয়েছে। আর্থিক জরিমানার এই নতুন রায় এবং প্রত্যার্পণ আটকানোর আবেদন খারিজ হওয়ার ফলে নীরব মোদির আইনি রক্ষাকবচ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা তাঁকে দ্রুত ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার পথ সুগম করল।