৩৩ ডিগ্রি গরমে ‘হুডি’ই ধরিয়ে দিল খুনিকে! পুনেতে হবু স্বামীকে খাদে ফেলে খুনে ধৃত বাগদত্তা ও প্রেমিক

পুনে: মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে পুনের ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালের মৃত্যু নিছক কোনও দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত খুন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর এই রোমহর্ষক খুনের কিনারা করতে পুলিশের সবচেয়ে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায় জুনের প্রবল গরমে পরা একটি ‘হুডি’ এবং ফেলে আসা মোবাইল!
দুর্ঘটনার তত্ত্ব ও পুলিশের সন্দেহ
গত ১৮ জুন হবু স্ত্রী সিয়ার সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে ৪৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান ২৬ বছর বয়সি কেতন। সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ছবি তোলার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেতন একজন অত্যন্ত দক্ষ ট্রেকার হওয়ায় পুনে গ্রামীণ পুলিশের মনে প্রথম থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে। পরিবারের তরফ থেকেও সন্দেহ প্রকাশ করায় তদন্তে নামে পুলিশ।
যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা:
তদন্তে নেমে বেশ কিছু চমকপ্রদ সূত্র পুলিশের হাতে আসে, যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়—
- সিসিটিভিতে ‘হুডি’ রহস্য: দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রবল গরমের মধ্যেও হুডি ও শর্টস পরা এক ব্যক্তি কেতন ও সিয়ার পিছু নিচ্ছেন। মুখ ঢাকতে হুডিটি নিচের দিকে নামানো ছিল। জুনের ওই গরমে কারও হুডি পরা দেখেই পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ওই ব্যক্তিই হলেন সিয়ার প্রেমিক চেতন।
- মোবাইল ট্র্যাক এড়ানোর ছক: খুনের দিন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের মোবাইল ফোনটি অফিসে রেখে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন চেতন, যাতে পুলিশ কোনওভাবেই তাঁর লোকেশন ট্র্যাক করতে না পারে।
- কল রেকর্ড ও চ্যাট ফাঁস: তদন্তে সিয়া ও চেতনের কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অকাট্য প্রমাণ মেলে।
খুনের মোটিভ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য:
জেরায় চেতন পুলিশকে জানিয়েছে, পরিবারের ঠিক করা বিয়ে ভেঙে দিয়ে সিয়া তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে রাজি ছিল না। এতে পরিবারের চরম আসাম্মান হবে ভেবেই তারা কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এর আগেও অন্তত তিনবার কেতনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল এই যুগল (একবার সাপ থেকে বাঁচানোর অজুহাতে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা হয়)। কিন্তু প্রতিবারই সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত লোহাগড় দুর্গের পাহাড়ের চূড়ায় সুযোগ বুঝে তাঁকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।