সুন্দরীদের ছদ্মবেশে ইউক্রেনের ‘ডাইনি’ সেনা! হানিট্র্যাপে মৃত্যুফাঁদে রুশ জওয়ানরা

সুন্দরীদের ছদ্মবেশে ইউক্রেনের ‘ডাইনি’ সেনা! হানিট্র্যাপে মৃত্যুফাঁদে রুশ জওয়ানরা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে কৌশল বদলেছে ইউক্রেন। এখন আর শুধু সম্মুখ সমর নয়; প্রযুক্তি, বুদ্ধিমত্তা এবং অভাবনীয় সব ফাঁদ পেতে রুশ বাহিনীকে পর্যুদস্ত করছে কিয়েভ। আর এই নতুন রণকৌশলে ইউক্রেনের অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো মহিলাদের এক বিশেষ গুপ্তচর দল—যাদের বলা হচ্ছে ‘ডাইনি বাহিনী’ বা ইউক্রেনীয় ভাষায় ‘ভিডমা’ (Vidma)।

কীভাবে কাজ করছে এই ‘ভিডমা’ বাহিনী?
ইউক্রেনের লোককথায় ‘ভিডমা’ বলতে এমন নারীদের বোঝায়, যাঁরা অজানা জ্ঞান ও বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। বর্তমানে এই ‘ভিডমা’ বাহিনীতে থাকা মহিলারা নিজেদের রূপ ও বুদ্ধির জাদুতে রুশ সেনাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুফাঁদ তৈরি করছেন।

  • হানিট্র্যাপ বা প্রেমের ফাঁদ: সম্প্রতি এক রুশ সেনা এই বাহিনীর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এক ইউক্রেনীয় গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ওই জওয়ানের। বিশ্বাস করে প্রেমিকাকে নিজের একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা আবছা মানচিত্রের সূত্র ধরে ইউক্রেনীয় সেনা নির্ভুল ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে ওই জওয়ানের মৃত্যু হয়।
  • ছদ্মবেশে তথ্য পাচার: এই বাহিনীর মহিলারা রুশ অধিকৃত এলাকার হাসপাতাল, স্কুল বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মীর ছদ্মবেশে কাজ করেন। সেখান থেকে অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক তথ্য সংগ্রহ করে তাঁরা ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে দেন।

রণক্ষেত্রে নারীদের অসামান্য অবদান
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য লেসিয়া ওরোবেটস জানান, দেশের মানুষ এই ভিডমাদের তাঁদের সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য সম্মান করেন। প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য পেত্রো আন্দ্রিউশচেঙ্কোর মতে, পুরুষদের পক্ষে যেসব জায়গায় পৌঁছানো প্রায় আসাম্ভব, এই মহিলারা অনায়াসেই সেখানে গিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ নিখুঁতভাবে করছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রোকসানা নামে খেরসনের এক মহিলার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। রুশ আগ্রাসনের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, বিদেশ থেকেই তিনি ইউক্রেন সেনার হয়ে কাজ করছেন। কোথায় হামলা চালাতে হবে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ নকশা তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন সেনার কাছে। এছাড়াও, ২০১৪ সাল থেকে ‘ইউক্রেনিয়ান উইমেনস গার্ড’-এর প্রধান ওলেনা বিলেতস্কা বহু মহিলাকে যুদ্ধের কৌশল ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন, যাঁরা আজ অধিকৃত অঞ্চলে মূল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও ভয়ের রাজত্ব
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া পরিচয়ে রুশ সেনাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তথ্য আদায়ের পাশাপাশি, ইউক্রেনীয় নারীদের অন্যতম লক্ষ্য হলো রুশ বাহিনীর মধ্যে চরম মানসিক আতঙ্ক তৈরি করা।

মারিউপোলের বাসিন্দা সেস্ত্রা নামের এক তরুণীর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা চাই আমাদের মাটিতে পা রাখা প্রতিটি রুশ সেনা যেন সারাক্ষণ চরম ভয় আর সন্দেহের মধ্যে বাঁচে। বাজারের সাধারণ বয়স্ক মহিলা, বাসচালক, ক্লিনিকের ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবার মধ্যেই যেন তারা নিজেদের মৃত্যু দেখতে পায়।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *