বৃদ্ধার সই জাল করে জমি ‘লুট’! কাঠগড়ায় তৃণমূল প্রধান, ব্যাপক চাঞ্চল্য

বৃদ্ধার সই জাল করে জমি ‘লুট’! কাঠগড়ায় তৃণমূল প্রধান, ব্যাপক চাঞ্চল্য

হাসনাবাদ: এক অসহায় বৃদ্ধার সই জাল করে তাঁর জমি হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল খোদ এক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। নিজের জমি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে হাসনাবাদ থানার ভেবিয়া পঞ্চায়েতের সাদিগাছি এলাকায়।

কী ঘটেছিল?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী বৃদ্ধার নাম বন্দনা ভট্টাচার্য। ২০১৯ সালে তিনি সাদিগাছি এলাকায় কিছু জমি কিনেছিলেন। বেশ কয়েক বছর পর সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই ওই জমির বেশ কিছুটা অংশ ভেবিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ওলিউল মণ্ডলের স্ত্রী তহমিনা পারভিন মণ্ডলের নামে রেকর্ড হয়ে গিয়েছে!

খোঁজখবর নিতে গিয়ে বৃদ্ধা জানতে পারেন, প্রধান ওলিউল মণ্ডল খোদ তাঁর সই জাল করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই জমি নিজের স্ত্রীর নামে করে নিয়েছেন।

প্রশাসনের দরজায় হয়রানি ও নতুন আশা:

  • পুরনো অভিযোগ: জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর তৎকালীন তৃণমূল আমলে হাসনাবাদের বিএলআরও (BLRO) অফিস এবং হাসনাবাদ থানায় সমস্ত প্রমাণ-সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বন্দনাদেবী। অভিযোগ, সেসময় কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
  • নতুন পদক্ষেপ: সম্প্রতি রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর ফের সুবিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন ওই বৃদ্ধা। নিজের ন্যায্য জমি ফেরত পেতে তিনি নতুন করে হাসনাবাদ থানা ও বিএলআরও অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কী বলছেন অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান?

জমি নিজের স্ত্রীর নামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও, জমি হাতানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধান ওলিউল মণ্ডল। তিনি একে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন।

প্রধানের সাফাই, “ওই বৃদ্ধার জমির পাশেই আমার স্ত্রীর জমি রয়েছে। আমাকে কালিমালিপ্ত করতে এবং ফাঁসানোর জন্য কেউ বা কারা চক্রান্ত করে বৃদ্ধার জমি আমার স্ত্রীর নামে রেকর্ড করিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়ে আমি আগে থেকে কিছুই জানতাম না। বিষয়টি জানার পরই ওই জমি যাতে ফের বৃদ্ধার নামে করে দেওয়া হয়, তার জন্য আমি নিজে বিএলআরও অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। প্রশাসনিক কারণে হয়তো এখনও সেটি বদল হয়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে আমি এই কাজ করিনি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *