বিজেপির ‘ভাঁওতার বাজেট’! প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের ফারাক কোথায়? রইল চুলচেরা বিশ্লেষণ

বিজেপির ‘ভাঁওতার বাজেট’! প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের ফারাক কোথায়? রইল চুলচেরা বিশ্লেষণ

রাজ্য বাজেটকে ‘ভাঁওতা’ এবং ‘জুমলা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে। অভিযোগ, এই বাজেটে শিল্প, কর্মসংস্থান বা বেকারত্ব দূর করার কোনও স্পষ্ট দিশা নেই। একাধিক ‘দার্শনিক’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবে রূপায়ণের কোনও গ্যারান্টি নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে।

বাজেটের বিভিন্ন ঘোষণা এবং তার পিছনের কঠিন বাস্তবের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক রয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে এই বিশ্লেষণে:

একনজরে ঘোষণা ও বাস্তবের ফারাক:

বিষয়বাজেটে ঘোষণাআসল বাস্তব
যুব ভাতা‘যুবসাথী’র বদলে ‘ভরসা’ প্রকল্পে গ্র্যাজুয়েটদের ৩,০০০ এবং অন্যদের ২,০০০ টাকা।পরিবারের কেউ অন্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেলে বা বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই ভাতা মিলবে না।
মহিলাদের অনুদান‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা। বরাদ্দ ৩৬,০০০ কোটি টাকা।এই বরাদ্দে বছরে বড়জোর ১.২ কোটি মহিলা সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের একটি বড় অংশ (প্রায় ১.২-১.৪ কোটি) বাদ পড়বেন।
মহার্ঘ ভাতা (DA)আগামী অক্টোবর মাস থেকে ২০% ডিএ বৃদ্ধি করা হবে।পূর্ববর্তী সরকারের ঘোষণা করা ৪% ডিএ-র হিসাব ধরলে, মাঝের ৮ মাসের বর্ধিত ডিএ থেকে বঞ্চিত হবেন কর্মীরা।
পে কমিশনজানুয়ারি মাস থেকে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) লাগু হবে।সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা ঢোকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এখন তা পিছিয়ে জানুয়ারি করা হয়েছে।
মিড ডে মিলবিদ্যালয়গুলির মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে (ISKCON)।ইসকন সাধারণত নিরামিষ খাবার বানায়। ফলে বাচ্চাদের পুষ্টির জন্য অপরিহার্য ডিম বা আমিষ খাবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যউত্তরবঙ্গে আইআইটি (IIT) এবং এইমস (AIIMS) তৈরি হবে।এগুলো কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কেন্দ্রের ঘোষণা ও অর্থ বরাদ্দ ছাড়া রাজ্য বাজেটে এর উল্লেখ নিছকই ‘আইওয়াশ’ বলে দাবি।
সংখ্যালঘু উন্নয়নমাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের বাজেট অর্ধেকের বেশি কমানো হয়েছে।এর ফলে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ এবং সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষায় বড়সড় কোপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন জেলাবাজেটে একাধিক নতুন জেলা তৈরির কথা বলা হয়েছে।এগুলো পূর্ববর্তী সরকারেরই ঘোষিত। উল্টে আগে ঘোষণা হওয়া ইছামতী ও রানাঘাটের মতো জেলাগুলি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
রাজনৈতিক ভাতাজেল খাটা বিজেপি কর্মী বা গণ আন্দোলনকারীদের ‘সংগ্রামী ভাতা’ দেওয়া হবে।সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকারি কোষাগার থেকে দলীয় কর্মীদের ভাতা দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই বাজেটকে পুরোপুরি ‘কেন্দ্রনির্ভর’ এবং দিশাহীন আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষের বাস্তব উপকারের চেয়ে চমকই বেশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *