৪০ কোটির দলবদল কটাক্ষে তোলপাড়, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদ

৪০ কোটির দলবদল কটাক্ষে তোলপাড়, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আদালতের দরজায় ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার চরম আইনি সংঘাতের রূপ নিতে চলেছে। দল ছেড়ে সদ্য ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠোকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তোলার জেরেই এই আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি তৃণমূলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই দিল্লির অলিন্দে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ জোটের শরিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন। এই বিপুল দলবদলের পরই বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ করেন মহুয়া মৈত্র। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভাঙনের প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে দাবি করেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা মাথাপিছু অন্তত ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে দলবদল করেছেন। মহুয়ার এই মন্তব্যকে ঘিরেই এখন ক্ষোভে ফুঁসছে বিক্ষুব্ধ শিবির।

ভার্চুয়াল বৈঠকে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা

কৃষ্ণনগরের সাংসদের এই লাগাতার আক্রমণাত্মক বয়ানের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কৌশল ঠিক করতে সম্প্রতি একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক সারেন দলত্যাগীরা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদই হাজির ছিলেন বলে জানা গেছে। মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। অন্যদিকে, দলবদলের এই মহানাটকে মহুয়া মৈত্র নিজে শামিল না হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই অনড় থেকেছেন।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ ছিল, বিদ্রোহী সাংসদেরা চার কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন এবং বাকি ৩৬ মাসের জন্য প্রতি মাসে এক কোটি টাকা করে নিচ্ছেন। এই মন্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে বিদ্রোহীদের ‘বদলপন্থী’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে এনসিপিআই নেতৃত্ব হালকাভাবে নিতে নারাজ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এবং দলত্যাগীদের মধ্যকার রাজনৈতিক তিক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে, লোকসভা ও বিধানসভার অলিন্দে ক্ষমতার সমীকরণ ও জোট রাজনীতির ক্ষেত্রেও এর এক গভীর ও দূরগামী প্রভাব পড়তে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *