বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল পুনরায় খোলার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার!

বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল পুনরায় খোলার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার এক যুগেরও বেশি সময় আগের চাঞ্চল্যকর প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি উঠেছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই প্রকৃত বিচারের আশায় বুক বাঁধছেন উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার প্রয়াত শিক্ষকের পরিবার। ঘটনার দীর্ঘ ১৪ বছর পর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, এই খুনের নেপথ্যে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চালিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু।

স্মৃতির পাতায় ২০১২ সালের সেই রক্তাক্ত ৫ জুলাই

২০১২ সালে সুঁটিয়া এলাকায় যখন দুষ্কৃতীদের লাগামছাড়া অত্যাচার ও একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছিল, তখন তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদী মঞ্চ গড়ে তোলার কারণে অপরাধীদের চোখে কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এর জের ধরেই ২০১২ সালের ৫ জুলাই ভরসন্ধ্যায় গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাঁকে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তখন ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মামলাটি গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আদালতে ঝুলে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের জমানায় বারবার আইনজীবী বদল করে এবং তাঁদের আইনজীবীকে প্রবল চাপে রেখে কোণঠাসা করা হয়েছিল।

ঘটনার কারণ ও নেপথ্যের প্রভাব

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবার অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেছেন যে, তৎকালীন খাদ্য দফতরে বসেই এই খুনের মূল রিমোট কন্ট্রোল চালিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এমনকি প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাসও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একদা বরুণের বাবাকে দিয়ে ক্লিনচিট দেওয়ার বিবৃতি লিখিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই দাবির তীব্র সমর্থন জানিয়ে বরুণ বিশ্বাস হত্যার ফাইল খোলার এবং সুঁটিয়ার অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন যে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন তদন্তের দাবিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই, তবে এই তদন্ত যেন কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক না হয়। পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের চিঠি দেওয়ার পর এই মামলার চাকা নতুন করে ঘোরে কি না এবং সুঁটিয়ার অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *