৮ লক্ষ কোটির বিপুল ঋণের বোঝা! নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কী দাওয়াই দেবেন স্বপন দাশগুপ্ত?

৮ লক্ষ কোটির বিপুল ঋণের বোঝা! নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কী দাওয়াই দেবেন স্বপন দাশগুপ্ত?

পশ্চিমবঙ্গের রাজকোষ বর্তমানে এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শেষে রাজ্যের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়াতে চলেছে ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। গত ১৫ বছরে রাজ্যের ধার বেড়েছে প্রায় চার গুণ, যার ফলে বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের মাথায় গড়ে প্রায় ৭০,৬৫৩ টাকার ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে। রাজ্যের মোট উৎপাদনের (জিএসডিপি) নিরিখে এই ঋণের অনুপাত প্রায় ৩৮ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের (২৮.৮ শতাংশ) তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই বিপুল ঋণের মহাসমুদ্র থেকে রাজ্যকে টেনে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

সুদের গ্রাসে রাজস্ব ও থমকে থাকা উন্নয়ন

রাজ্যের এই চরম আর্থিক সংকটের মূল কারণ হলো নিজস্ব আয়ের তুলনায় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে বিপুল পরিমাণ ব্যয়। হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১.১৮ লক্ষ কোটি টাকা হলেও, শুধুমাত্র ভাতা ও সামাজিক খাতেই ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে রাজ্যের কোষাগারে। সরকার যা আয় করছে, তার ২০ থেকে ২৮ শতাংশই চলে যাচ্ছে পুরনো ধারের সুদ মেটাতে। নীতি আয়োগের ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৫’-এ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে লাল সংকেত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান নেমেছে ১৬ নম্বরে। আয়ের এক চতুর্থাংশ সুদের খাতে বেরিয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট, হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের হাতে কোনো অর্থই অবশিষ্ট থাকছে না।

ঋণমুক্তির লক্ষ্যে বাজেটে সম্ভাব্য ৩ কৌশল

এই দমবন্ধ করা আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং আগামী ৫ বছরের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি করতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেটে তিনটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রথমত, রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী কয়েক বছরের জন্য একটি কড়া ‘আর্থিক শৃঙ্খলা রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ধার নেওয়ার প্রবণতা কমানো হবে। দ্বিতীয়ত, অর্থ দফতরের অধীনে একটি বিশেষ ‘ঋণ পরিচালন সেল’ গঠন করে অতীত জমানার চড়া সুদের পুরোনো ঋণগুলিকে কম সুদের ঋণে পুনর্গঠন করার পথে হাঁটতে পারে সরকার। সর্বোপরি, সরকারি স্তরে উৎসব-মেলা এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ ও অপচয় বন্ধ করতে কঠোর ‘অস্টেরিটি মেজার্স’ বা ব্যয়সঙ্কোচ নীতি কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট ঘোষণাই নির্ধারণ করে দেবে আগামী দিনে বাংলার অর্থনীতি খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *