বাজেটে কি ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা, কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক মেটাতে অন্তত ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা

বাজেটে কি ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা, কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক মেটাতে অন্তত ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা

বাংলায় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের পাহাড় সামলানোর পাশাপাশি এই বাজেটে নতুন সরকারের রাজনৈতিক সঙ্কল্প ও অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে নবান্নের অলিন্দে সবচেয়ে বড় যে চর্চাটি চলছে, তা হল রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ঠিক কী ঘোষণা করতে চলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের ঘোষিত ‘সঙ্কল্পপত্র’-এ ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে সোমবারের বাজেট বক্তৃতায় সেই প্রতিশ্রুতির কতটা প্রতিফলন ঘটে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

কেন্দ্রের সঙ্গে ৩৬ শতাংশের বিপুল ব্যবধান

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ২২ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র হার এই মুহূর্তে ৫৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে কেন্দ্র আর রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার মধ্যে এখনও স্পষ্ট ৩৬ শতাংশের এক বিশাল ফারাক রয়ে গিয়েছে। রাজকোষের বর্তমান সংকটের মধ্যে এই বিপুল ব্যবধান এক ধাক্কায় মেটানো অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও সঙ্কল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকারকে একটি বড় পদক্ষেপ করতে হবে। নবান্নের একটি শীর্ষ সূত্রের দাবি, রাজকোষের উপর প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রথম বাজেটকে জনপ্রিয় করতে এবং প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটা শুরু করতে অর্থমন্ত্রী এই বাজেটে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করতে পারেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ আশা করছে যে, কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে সরকার এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ বাড়িয়ে চমক দিতে পারে। এর পাশাপাশি স্থায়ী শূন্যপদ ঘোষণা এবং চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামোর প্রত্যাশাও রয়েছে কর্মী সংগঠনগুলোর।

ঋণের বোঝা ও সামাজিক দায়ের চ্যালেঞ্জ

এই ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন রাজনৈতিক সঙ্কল্প কাজ করছে, তেমনই এর বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ মতো সামাজিক প্রকল্পের বিপুল আর্থিক দায় এবং অন্যদিকে বিপুল ঋণের বোঝা, এই দুই চ্যালেঞ্জের মাঝখানে দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর ডিএ-র দাবি পূরণ করা রাজকোষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে রাজকোষের ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্যদিকে কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন করে সঙ্কল্প পূরণ করার ক্ষেত্রে এই মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *