বছরে টেট আর ৫০ হাজার স্থায়ী পদে নিয়োগ! রাজ্য বাজেটে আর কী কী চমক থাকছে?

সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বাজেট নিছকই আর্থিক খতিয়ান নয়, বরং বিধানসভা ভোটের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণের এক অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে। রাজ্যের বিপুল ঋণের বোঝা সামাল দিয়ে যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষাকেই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।
কর্মসংস্থান ও শিল্পে মেগা ব্লু-প্রিন্ট
বেকারত্ব দূর করতে রাজ্য বাজেটে প্রায় ৫০ হাজার সরকারি স্থায়ী পদে নিয়োগের বড়সড় ঘোষণা হতে পারে। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরিয়ে এনে প্রতি বছর নিয়ম মেনে টেট-সহ অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হতে পারে বাজেটে। পাশাপাশি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনীতে বিপুল নিয়োগ এবং বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তামূলক নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যে কর্মসংস্থানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রাজ্যে ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবং পর্যটনকে বিশ্বস্তরে পৌঁছে দিতে ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ সংক্রান্ত বিশেষ ঘোষণাও থাকতে পারে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রত্যাবর্তন ও সামাজিক সুরক্ষা
স্থগিত থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা এই বাজেটের অন্যতম বড় চমক হতে চলেছে। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটাতে এবং তাকে নতুন রূপ দিতে ‘জি রাম জি’ খাতে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে, ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা’ এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বিমা রাজ্যে চালু করার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ আশা করা হচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেও আলাদা তহবিলের ঘোষণা হতে পারে। অন্যদিকে, মহিলাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তাকে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার যে বিশাল আর্থিক দায়ভার, তা মেটাতে সমাজকল্যাণমূলক খাতে বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ করা হবে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে।