স্টেশনে এবার চাকা ঘুরবে ফুড স্টলের, নামমাত্র খরচে পেট ভরবে রেলযাত্রীদের!

রেল যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও সুবিধাজনক করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল। দূর-দূরান্তের যাত্রাপথে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা বা ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে স্টেশন চত্বরে চালু হতে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টল। কোনো স্থায়ী অবকাঠামো ছাড়াই চাকা লাগানো এই স্টলগুলো স্টেশনের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ঘুরে ঘুরে যাত্রীদের পছন্দের খাবার সরবরাহ করবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার দুটি ব্যস্ততম স্টেশন কলকাতা ও শিয়ালদহ থেকে এই পরিষেবা শুরু হতে যাচ্ছে।
সাশ্রয়ী মূল্য ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো আমজনতার নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার পৌঁছে দেওয়া, যাতে যাত্রীদের চড়া দামে খাবার কিনতে না হয়। চুক্তির ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই স্টলগুলো চালুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যেমন সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন, তেমনই নতুন উদ্যোক্তা ও বিক্রেতাদের জন্য লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই স্টল পাওয়ার জন্য বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি দামের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে।
পরিবেশ রক্ষা ও যাত্রী সুরক্ষায় কড়া নিয়ম
স্টেশনে চাকা ঘুরিয়ে খাবার বিক্রির এই উদ্যোগের কিছু সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যা মোকাবিলায় রেল প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। স্টলগুলোর কারণে স্টেশনে যাতে কোনো ধরনের নোংরা পরিবেশ তৈরি না হয়, সেজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। খাবার বিক্রির পর যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে, স্টলে ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত কিংবা ট্রেনে ওঠানামায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টলগুলো স্টেশনের সব জায়গায় যেতে পারবে না, কেবল নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই এদের চলাচল সীমাবদ্ধ থাকবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ সফল হলে আগামীদিনে অন্যান্য বড় স্টেশনগুলোতেও এই ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান দেখা যাবে, যা রেলের যাত্রী পরিষেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।