হুঁশিয়ারির ধাক্কা সামলে সচল কূটনীতি, ট্রাম্পের গরম বার্তার পরেও ভেস্তে যায়নি আমেরিকা-ইরান আলোচনা!

সুইৎজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ঘিরে তীব্র নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া হুঁশিয়ারিমূলক সাক্ষাৎকারের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানের প্রতিনিধিদল সাময়িকভাবে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায়। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আলোচনাস্থল ত্যাগ করায় আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়। তবে পাকিস্তান ও কাতারের দক্ষ মধ্যস্থতায় সেই সংকট কেটে গেছে এবং সোমবারই দুই দেশ পুনরায় বৈঠকে বসতে চলেছে।
অবিশ্বাসের আবহ ও নাটকীয় মোড়
রবিবার বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তারা যদি তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণে না আনে তবে আমেরিকা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে। হরমুজ প্রণালী নিয়েও তিনি কড়া বার্তা দেন। এই মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ইরানি পক্ষ ওয়াকআউট করলেও, পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ বজায় থাকে। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলা এই রবিবাসরীয় বৈঠকে হরমুজ প্রণালী, লেবানন পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ
এই মুহূর্তে আলোচনার মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যকার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লার ওপর ইজরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে স্থায়ী সমঝোতা আসাম্ভব। বিপরীতে, আমেরিকা চাইছে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে জানিয়েছেন যে, এমন জটিল আলোচনায় সাময়িক অচলাবস্থা স্বাভাবিক এবং আঞ্চলিক স্বার্থেই আলোচনার পথ খোলা রাখা দরকার। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাসের বিষয়টি পুনরুত্থাপন করলেও, আলোচনার টেবিল বজায় থাকাটাই বড় ইতিবাচক দিক। এখন সোমবারের পরবর্তী বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।