দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারলেও বিশ্বকাপে হরমনপ্রীতদের সেমিফাইনালের পথ এখনও খোলা!

মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় দল। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। প্রোটিয়া দলের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন মারিজান ক্যাপ, যাঁর অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসটি ভারতের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেয়। তবে এই পরাজয়ের পরেও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের দলের সেমিফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়নি, বরং সমীকরণের দিক থেকে ভারতের ভাগ্য এখনও নিজেদের হাতেই রয়েছে।
সেমিফাইনালের সমীকরণ ও পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান
এই হারের ফলে ভারতের শেষ চারে ওঠার লড়াই কিছুটা কঠিন হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে দুটিতে জয় ও একটিতে হেরে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় ভারতের নেট রান রেট বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে, যা এই হারের পরেও দলকে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়ে গ্রুপের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে এবং প্রোটিয়ারাও সেমিফাইনালের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরে এসেছে।
ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মাঝের ওভারগুলোতে বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারানো। এই সতর্কবার্তাকে কাজে লাগিয়ে আগামী ম্যাচগুলোতে ভারতীয় দলকে আরও গোছানো ক্রিকেট খেলতে হবে। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে আর কোনো হোঁচট খাওয়া চলবে না। এখন থেকে শুধু জয় পেলেই হবে না, নেট রান রেট আরও উন্নত করতে বড় ব্যবধানে জেতার দিকেও নজর দিতে হবে। আগামী ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং বিভাগে স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মা এবং অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ওপর যেমন বড় রানের দায়িত্ব থাকবে, ঠিক তেমনি বোলারদেরও আরও ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করতে হবে।