ই-ওয়ালেট নিষ্ক্রিয় রাখলেই কাটা যাবে টাকা, গ্রাহকদের পকেট বাঁচাতে জানুন সহজ উপায়!

ডিজিটাল লেনদেনের যুগে ক্যাশলেস পেমেন্ট এখন সাধারণ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার জনপ্রিয়তার কারণে অনেকেই এখন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এর ফলে একটা বড় অংশের গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় পেমেন্ট অ্যাপ ‘ফোনপে’ তাদের নিষ্ক্রিয় ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা ইনঅ্যাকটিভিটি মেনটেন্যান্স চার্জ ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচ এবং প্রভাব
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি টানা ৩৬৫ দিন বা এক বছর তাঁর ফোনপে ওয়ালেটে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করেন, তবে সেই অ্যাকাউন্টটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা ইনঅ্যাক্টিভ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের দেখভালের জন্য সংস্থাটি বার্ষিক ১০০ টাকা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ফি কেটে নিতে পারে। অনেক গ্রাহকের ধারণা ছিল যে নিয়মিত ইউপিআই লেনদেন করলেই হয়তো এই চার্জ এড়ানো যাবে। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইউপিআই পেমেন্টের সাথে ওয়ালেটের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে ওয়ালেট আলাদাভাবে সক্রিয় না রাখলে এই মাসুল এড়ানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ালেটে টাকা ফেলে রাখা অসচেতন গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
পকেট বাঁচানোর সহজ কৌশল
গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলেই এই অতিরিক্ত খরচ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব। নিয়ম মেনে কোনো ফি কাটার অন্তত ১৫ দিন আগে সংস্থার পক্ষ থেকে গ্রাহককে নোটিফিকেশন বা বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হবে। এই চার্জ থেকে বাঁচতে হলে বছরে অন্তত একবার ওয়ালেটের মাধ্যমে যেকোনো একটি লেনদেন করতে হবে। গ্রাহকরা চাইলে ওয়ালেটে নতুন করে টাকা যোগ করতে পারেন অথবা কোনো কেনাকাটা ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য ওয়ালেটে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারেন।
সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওয়ালেটে যদি ১০০ টাকার কম ব্যালেন্স থাকে, তবে ফি বাবদ শুধু সেই অবশিষ্ট টাকাটুকুই কেটে নেওয়া হবে এবং ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যাবে। এর ফলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কোনো নেগেটিভ ব্যালেন্স বা বকেয়া ঋণের বোঝা তৈরি হবে না। তবে বাড়তি টাকা খোয়ানোর হাত থেকে বাঁচতে বছরে অন্তত একবার ওয়ালেট ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।