এক লক্ষ নিয়োগের মেগা চমক দিয়ে ঋণজর্জর রাজ্যের বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

এক লক্ষ নিয়োগের মেগা চমক দিয়ে ঋণজর্জর রাজ্যের বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক বড়সড় চমক দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। গোটা রাজ্যের নজর কেড়ে সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের এই বাজেটে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিপুল এই কর্মসংস্থানের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের ঘাড়ে থাকা বিশাল ঋণের বোঝাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এই বাজেট যেমন নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনই তৈরি করেছে চরম আর্থিক চ্যালেঞ্জ।

নিয়োগের বড় ঘোষণা ও নারী ক্ষমতায়ন

রাজ্য সরকারি দফতরে কর্মসংস্থানের খরা কাটাতে এক লক্ষ শূন্যপদ পূরণের যে ঘোষণা এসেছে, তা স্বাভাবিকভাবেই চাকরিপ্রার্থীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে। বড় বিষয় হলো, এই মোট নিয়োগের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যা নারী ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মোট পদের মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ বিভাগে এবং ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদে নিয়োগ করা হবে। এছাড়া উপযুক্ত ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের স্বস্তি দিয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আরও ২ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও সংস্কৃতির নতুন পরিকাঠামো

শুধু নিয়োগই নয়, রাজ্যের মেধার মানোন্নয়নে পরিকাঠামো গড়ার দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। ইউপিএসসি এবং ডাব্লিউবিসিএস-এর মতো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিউটাউনে একটি নতুন স্টেট সিভিল সার্ভিস ইনস্টিটিউশন বা প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি কলকাতায় একটি নতুন সংস্কৃতি স্কুল গড়ে তোলার কথাও বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিশাল ঋণের বোঝা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বাজেটের এই ঢালাও জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানমূলক ঘোষণার সমান্তরালে উঠে এসেছে রাজ্যের এক উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক চিত্র। বাজেট পেশের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে রাজ্যের উপর ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ থাকা সত্ত্বেও এক লক্ষ নতুন সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যের কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। একদিকে বেতন ও পেনশনের অতিরিক্ত ব্যয়ভার সামলানো এবং অন্যদিকে উন্নয়নমূলক কাজ সচল রাখা আগামী দিনে নতুন এই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *