গড়িয়াহাট বাজারে আচমকা অগ্নিমিত্রা, অপরিচ্ছন্নতা ও দখলদারি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি!

গড়িয়াহাট বাজারে আচমকা অগ্নিমিত্রা, অপরিচ্ছন্নতা ও দখলদারি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি!

রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর বাজার ও জনপরিসর পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন সরকার। এরই অঙ্গ হিসেবে সোমবার সকালে হঠাৎই গড়িয়াহাট বাজার পরিদর্শনে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাজার পরিদর্শনের সময় মাছের বাজারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দোকানের বেআইনি সম্প্রসারণ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আবর্জনা ও দখলদারি নিয়ে কড়া বার্তা

বাজার ঘুরে দেখার সময় একাধিক চরম অব্যবস্থা মন্ত্রীর চোখে পড়ে। মাছের বাজারে যত্রতত্র পড়ে থাকা আবর্জনা এবং আঁশ জমে নর্দমার মুখ বন্ধ হয়ে থাকার দৃশ্য দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। নর্দমার জলিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে ভবিষ্যতে মাছের আঁশ পরিষ্কার করে তবেই জল ফেলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, পরিদর্শনের সময় একাধিক দোকানের সামনের বাড়তি অংশ বা বেআইনি নির্মাণ মন্ত্রীর নজরে আসে। সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দোকান সম্প্রসারণের কারণ জানতে চেয়ে ব্যবসায়ীদের সরাসরি প্রশ্ন করেন তিনি। সরকারি জায়গা জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তাও দেন পুরমন্ত্রী।

১৫ দিনের চরমসীমা ও সম্ভাব্য প্রভাব

গড়িয়াহাটের মাছ ও ফলের বাজারের এই বেহাল পরিস্থিতি বদলাতে ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ ও পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাতে হবে। ১৫ দিন পর তিনি ফের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন এবং নির্দেশ অমান্য করলে আগামী ১ জুলাই থেকে কড়া জরিমানা কার্যকর করা হবে। শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদেরই নয়, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ও নজরদারিতে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে পুরকর্মীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। নতুন সরকারের এই কড়া পদক্ষেপে শহরের অন্যান্য বাজারগুলিতেও দ্রুত পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিদর্শনের শেষে পুরমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই সরকারে নিয়ম মেনেই সব কাজ হবে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বাড়তি স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *