ওষুধ-ইনসুলিন ছাড়াই ডায়াবিটিস জয়! ২০ কেজি ওজন কমিয়ে ফিটনেস চমক অমিত শাহের
নয়াদিল্লি: চরম রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও কীভাবে নিজেকে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও ফিট রাখা যায়, তার অনন্য নজির গড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কোনওরকম ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ বা আধুনিক ওষুধের সাহায্য ছাড়াই তিনি ডায়াবিটিসের মতো সমস্যাকে হারিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের জীবনযাত্রায় বদল এনে তিনি প্রায় ২০ কেজি ওজনও ঝরিয়েছেন।
সম্প্রতি দিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস’ (ILBS)-এর একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ফিটনেস জার্নি নিয়ে বলা কথার একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।
কী সেই সুস্থতার ‘গোপন মন্ত্র’?
অমিত শাহ জানিয়েছেন, তিনি আগে ডায়াবেটিক ছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের মে মাস থেকে তিনি নিজের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনেন। তাঁর এই সুস্থতার রুটিনের মূল ভিত্তিগুলি হলো:
- সঠিক সময়ে ঘুম: পর্যাপ্ত এবং নিয়ম মেনে ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা।
- পর্যাপ্ত জলপান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা।
- সঠিক ডায়েট ও ব্যায়াম: কড়া শৃঙ্খলা মেনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই সহজ অভ্যাসগুলোই আমাকে অনেক কিছু ফিরিয়ে দিয়েছে। গত সাড়ে চার বছরে আমি সমস্ত রকম অ্যালোপ্যাথি ওষুধ এবং ইনসুলিন নেওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছি।”
কাজের ক্ষমতায় ম্যাজিকের মতো প্রভাব
এই জীবনযাত্রা শুধুমাত্র তাঁর ওজনই কমায়নি, পাশাপাশি তাঁর কাজের ক্ষমতা এবং মানসিক তীক্ষ্ণতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতো একটি গুরুদায়িত্ব সামলাতে যে গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন, এই রুটিন তাকে আরও উন্নত করেছে বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে সাফল্যের ৩ মূল চাবিকাঠি:
অমিত শাহের এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে, জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবিটিস ও ওজনের সমস্যা নিরাময় সম্ভব। এর প্রধান তিনটি দিক হলো:
- ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা: কোনও চটজলদি ম্যাজিক বা ‘কুইক-ফিক্স’ ডায়েটের পিছনে না ছুটে, সাড়ে চার বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে নিয়ম মেনে চলা।
- হাইড্রেশন ও মেটাবলিজম: পর্যাপ্ত জলপান ও সময়মতো খাবার খেয়ে শরীরের টক্সিন বের করা এবং বিপাক হার ঠিক রাখা।
- পরিমিত ঘুম: আধুনিক গবেষণা বলছে, অনিদ্রা বা কম ঘুম শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয় যা ডায়াবিটিসের অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম সেই সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করে।