জিএসটি মকুব, তবুও আকাশছোঁয়া স্বাস্থ্যবিমা! প্রিমিয়ামের খরচ কমাবেন কীভাবে?
June 23, 20262:13 pm

পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) প্রত্যাহারের পর সাধারণ মানুষের আশা ছিল স্বাস্থ্যবিমার (Health Insurance) খরচ কমবে। নতুন বিমার ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কমলেও, পলিসি পুনর্নবীকরণ (Renewal) করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে গ্রাহকদের। অভিযোগ, প্রতি কিস্তিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
কেন বাড়ছে প্রিমিয়াম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিমা কোনও নির্দিষ্ট মূল্যের পণ্য নয়। চিকিৎসা এবং হাসপাতালের খরচ সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিমা সংস্থাগুলিও কিস্তির অঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বয়সজনিত কারণেও অনেক সময় প্রিমিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়।
তবে বিমার সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখেও কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করলে এই খরচ কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্যবিমার কিস্তি কমানোর ৫টি সহজ উপায়:
- বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান: সবার আগে গ্রাহককে বুঝতে হবে ঠিক কী কারণে তাঁর প্রিমিয়াম বেড়েছে। যদি বয়স বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট কারণে এটি বাড়ে, তবে কিস্তি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাড-অন বাতিল: অনেকেই পলিসির সঙ্গে অতিরিক্ত সুবিধা (Add-ons) যুক্ত করে বাড়তি টাকা দেন। যদি সেই বিশেষ সুবিধার আর প্রয়োজন না থাকে বা স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, তবে সেগুলি বাতিল করে প্রিমিয়ামের খরচ কমানো যেতে পারে।
- ডিডাক্টেবল (Deductible) প্ল্যান বেছে নেওয়া: এই ধরনের প্ল্যানে প্রিমিয়াম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ২৫,০০০ টাকার ‘ডিডাক্টেবল’ বেছে নেন, তবে ২ লক্ষ টাকার বিল হলে প্রথম ২৫,০০০ টাকা আপনাকে দিতে হবে, বাকিটা মেটাবে বিমা সংস্থা।
- সুপার টপ-আপ (Super Top-up) ব্যবহার: মূল স্বাস্থ্যবিমার কভারেজ খুব বেশি না বাড়িয়ে একটি ‘সুপার টপ-আপ’ পলিসি কিনে রাখা অত্যন্ত লাভজনক। হাসপাতালে বড়সড় বিল হলে এটি দারুণ কাজে আসে এবং পকেটে টান পড়ে না।
- বিমার প্ল্যান পরিবর্তন: খরচ অতিরিক্ত বাড়লে অন্য কোনও সাশ্রয়ী প্ল্যানে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রিমিয়াম কমানোর জন্য প্ল্যান বদলানো উচিত নয়; নতুন প্ল্যানের কভারেজ ও অন্যান্য সুবিধাগুলি আগে ভালো করে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।