শওকতপুত্রের বেআইনি ক্যাফেতে এবার প্রশাসনের বুলডোজার!

শওকতপুত্রের বেআইনি ক্যাফেতে এবার প্রশাসনের বুলডোজার!

মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা বিলাসবহুল ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে তথা ক্যাফের মালিক ইমরান মোল্লাকে এই মর্মে নোটিস পাঠিয়েছেন মহকুমাশাসক। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে মালিকপক্ষকে নিজ দায়িত্বে এই ক্যাফেটেরিয়াটি ভেঙে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করা হলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার চালিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ও বেআইনি নির্মাণ

ক্যানিংয়ের মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সেচ দপ্তরের জমি দখল করে এই ঝাঁ চকচকে ক্যাফেটি গড়ে তোলা হয়েছিল। শওকত মোল্লা বিধায়ক থাকাকালীন তাঁর ছেলে ইমরান ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাতলা নদীর চরে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে ক্যানিং মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে ক্যাফে সংক্রান্ত সমস্ত আইনি নথিপত্র তলব করা হয়। সেই সমস্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে বিশাল এই ক্যাফেটেরিয়াটি তৈরি করা হয়েছিল, যার কোনো বৈধতাই নেই।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে এলাকার নদীচর ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই নির্দিষ্ট ক্যাফেটি ছাড়াও ক্যানিংয়ের ওই এলাকায় মাতলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে আরও একাধিক দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই সমস্ত দোকানের বৈধতা ও নথিপত্র পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফে ভাঙার এই প্রক্রিয়া আগামীদিনে ওই অঞ্চলের বাকি বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *