কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন! জোর নেই হরে কৃষ্ণ বলায়

কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন! জোর নেই হরে কৃষ্ণ বলায়

রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের গুণমান নিয়ে অতীত সরকারের আমলে ওঠা অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিস্তর অভিযোগের অবসান ঘটাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় সংস্থা ইসকনকে। পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়াতে পড়ুয়াপিছু বরাদ্দ সাড়ে ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে এবং রাঁধুনিদের পারিশ্রমিক মাসে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে স্কুলের খাবারে আরশোলা বা টিকটিকি মেলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

শুদ্ধ নিরামিষ ও পুষ্টিতে জোর

নতুন এই সিদ্ধান্তে খাবারের মান উন্নত হলেও মেনু থেকে বাদ পড়তে চলেছে ডিমের মতো প্রাণীজ প্রোটিন। ইসকনের নিজস্ব গৌড়ীয় ভাবধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারই পরিবেশন করা হবে। তবে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে ডিমের বদলে সোয়াবিন, রাজমা ও পনীরের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত উপকরণ রাখা হচ্ছে খাদ্যতালিকায়। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে পড়ুয়াদের পাতে পড়বে ভাত, ডাল, আলু চোখা, পোলাও, মটর পনীর, কুমড়ো চানা থেকে শুরু করে খিচুড়ি, পাঁপড় ও মিষ্টি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসকন খাবার সরবরাহ করলেও পড়ুয়াদের ‘হরে কৃষ্ণ’ বলায় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পড়ুয়াদের কাছে শুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

বাস্তবায়নের রূপরেখা

২০০৪ সাল থেকে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট-সহ আটটি রাজ্যে মিড ডে মিল পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইসকন কলকাতার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। হরিয়ানার মতো একটি মাত্র বিশাল কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহের মডেল কলকাতার যানজটের কারণে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি। তাই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুতই সরবরাহ পরিকাঠামো এবং রান্নাঘরের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই পদক্ষেপ সফল হলে তা আগামী দিনে শহরের স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *