সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম! নিশানায় ‘হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’, বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম! নিশানায় ‘হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’, বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলার জন্য বিধানসভার চলতি অধিবেশনেই নয়া বিল আনতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর জবাবি বিতর্কে অংশ নিয়ে এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও নাম না করলেও তাঁর নিশানায় যে সরাসরি ‘হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’ এবং ‘ক্যামাক স্ট্রিট’, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।

‘প্রাসাদ নিলাম করে ফ্লাইওভারের নীচে রাখব’

বিধানসভায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই অধিবেশনেই বিল আসবে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। নিলাম করব। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে যে প্রাসাদগুলি রয়েছে, সেখানে ফ্লাইওভারের নীচে যাঁরা থাকেন, তাঁদের রাখব।…তোলাবাজ, লাল-চুল কানে-দুল এক জনও জেলের বাইরে থাকবে না।” এর পাশাপাশি বীরভূমের পাথর খাদানের বেআইনি টাকার একাংশ ক্যামাক স্ট্রিটে যেত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে কালীঘাট শিবিরের তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি নাম করে কিছু বলতেন, তখন এই বিষয়ে আলোচনার সুযোগ থাকত। উনি কারও নাম করেননি, তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”

দুর্নীতির খতিয়ান: নিশানায় বিজিবিএস ও সামাজিক প্রকল্প

এদিন বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার একাধিক দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী—

  • বিজিবিএস আর্থিক অনিয়ম: মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নথি দেখিয়ে দাবি করেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (বিজিবিএস)-এর আয়োজনের জন্য বণিক সংগঠন ফিকি (FICCI)-কে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সই রয়েছে বলে দাবি করে তিনি একে ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলে কটাক্ষ করেন।
  • ভাতা ও প্রকল্পে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘বার্ধক্য ভাতা’, ‘মেধাশ্রী’, ‘জয় জোহার’-এর মতো একাধিক প্রকল্পে বিপুল আর্থিক কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি জানান, শুধু মুর্শিদাবাদের ডোমকল ব্লকেই হাজার হাজার অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে টাকা ঢুকেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পেই এমন প্রায় ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “সবে তো শুরু হয়েছে, একটা চোরকেও ছাড়া হবে না।”

কী বলছে বিরোধী শিবির?

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির পক্ষে সওয়াল করলেও সাধারণ কর্মীদের হয়রানির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “ভুঁইফোড় ও চার্টার্ড মাফিয়াদের দুর্নীতির খেসারত কেন সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের দিতে হবে? নিরপরাধদের যেন শাস্তি দেওয়া না হয় এবং নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে জোর করে জরিমানা আদায় করা বন্ধ হোক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের এই আসন্ন বিল বিধানসভায় পাশ হলে তা প্রশাসনের হাতে একটি বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *