উচ্ছেদের বলি টিকিয়াপাড়ার ১২০ পরিবার! পুনর্বাসন ছাড়াই রেলের জমিতে চলল বুলডোজার

মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার টিকিয়াপাড়া স্টেশনের অদূরে কাঠপোল বস্তিতে বেআইনি দখলদারি মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাল পূর্ব রেল। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২০টি ঘর। এর ফলে কার্যত গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ওই বস্তির প্রায় হাজার খানেক বাসিন্দা। উচ্ছেদের সময় স্থানীয়রা রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মৃদু লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
উচ্ছেদের কারণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উচ্ছেদ পূর্বঘোষিত এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে। উচ্ছেদের আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য ১৯ জুন পর্যন্ত সময়সীমা দিয়ে নোটিস জারি করা হয়েছিল। রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, জায়গাটি আদতে রাজ্য সরকারের হলেও রেলের নির্দিষ্ট কিছু উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তা ব্যবহৃত হবে। মূলত পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থেই এই দখলদার উচ্ছেদ অপরিহার্য ছিল।
বাসিন্দাদের দুর্দশা ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
এই পদক্ষেপে চরম সঙ্কটে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই তাঁদের পথে বসানো হয়েছে। মহরম পর্যন্ত সময় চাওয়া হলেও প্রশাসন তা গ্রাহ্য করেনি। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে স্থানীয় স্তরে শোষণের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাসিন্দাদের দাবি, ‘লাল’ নামের এক ব্যক্তি সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ওই বস্তিতে থাকার জন্য তাঁদের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া আদায় করতেন। এমনকি তাঁদের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের মতো জরুরি পরিচয়পত্রও ওই ব্যক্তি নিজের জিম্মায় আটকে রেখেছেন। পুনর্বাসনহীন এই উচ্ছেদের ফলে একদিকে যেমন বহু পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাল, তেমনই সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা বেআইনি ভাড়াচক্রের মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যাও জনসমক্ষে এল।