মিড ডে মিল থেকে বাদ ডিম! ‘বাংলাকে নিরামিষ করার ছক’, সরব ডেরেক
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/13/IFHPJOQe9byurq68kz0J.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
কলকাতা: কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব পেয়েছে ইসকন (ISKCON)। আর এর ফলে পড়ুয়াদের পাত থেকে এবার বাদ পড়তে চলেছে ডিম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর কড়া অভিযোগ, মিড ডে মিল থেকে ডিম বাদ দিয়ে বাংলাকে পুরোপুরি ‘নিরামিষভোজী’ রাজ্যে পরিণত করার ছক কষছে গেরুয়া শিবির।
ডেরেকের ‘গুজরাত জিমখানা’ কটাক্ষ:
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন লেখেন, “নির্বাচনী প্রচারে মাছ খেয়ে তামাশা করার পর গুজরাত জিমখানা নিজেদের আসল চরিত্র বুঝিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে— বিপক্ষের দিকে ডিম ছুঁড়ছে আর পুষ্টি থেকে বাচ্চাদের বঞ্চিত করছে। রাজ্যকে নিরামিষভোজী করার এই চেষ্টা বাংলা মেনে নেবে না।”
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গুজরাতের মতো এ রাজ্যেও আমিষ খাবার বন্ধ করে দেবে। সেই সময় অভিযোগ ওড়াতে বিজেপি নেতারা বাজারে গিয়ে মাছ কিনে এবং মাছ-ভাত খেয়ে পাল্টা প্রচার চালিয়েছিলেন। ডেরেকের দাবি, ক্ষমতায় এসেই সেই মাছ খাওয়ার নাটক ভুলে আসল রূপ দেখাচ্ছে তারা।
বিকল্প পুষ্টি নিয়ে কী বলছে ইসকন?
যেহেতু ইসকনের হেঁশেলে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার তৈরি হয়, তাই মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রাণিজ প্রোটিনের বিকল্প হিসেবে পুষ্টির কোনও ঘাটতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস।
- পড়ুয়াদের ভাত-ডালের পাশাপাশি সয়াবিন, পনির, রাজমা এবং নানা রকম পুষ্টিকর সবজি দেওয়া হবে।
- ডিম ও মাংসের সমপরিমাণ প্রোটিন ও ভিটামিন নিশ্চিত করেই প্রতিদিনের মেনু তৈরি করা হবে বলে গ্যারান্টি দিয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রীর জবাব:
এই বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “কলকাতার স্কুলগুলির জন্য পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়েছে। ওদের দেওয়া খাবারের গুণমান অত্যন্ত ভালো, খেয়ে দেখুন। আপনার ইচ্ছা না হলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলার দরকার নেই।”