‘চাকরি-দুর্নীতি’র জালে এবার মানস! গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে প্রাক্তন মন্ত্রী

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই গ্রেফতারির খাঁড়া ঝুলছে ঘাসফুল শিবিরের ছোট-বড় বহু নেতার ওপর। পুলিশ ও সিআইডি-র (CID) লাগাতার তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছেন একাধিক নেতা ও কাউন্সিলর। গ্রেফতারির এই প্রবল আতঙ্কের মাঝেই এবার আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা মানস ভুঁইঞা।
কী অভিযোগ প্রাক্তন সেচমন্ত্রীর বিরুদ্ধে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার একসময়ের প্রথম সারির নেতা এবং সবংয়ের সাতবারের বিধায়ক মানস ভুঁইঞা সম্প্রতি দল ছেড়েছেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার মারাত্মক অভিযোগ।
কী বলছেন অভিযোগকারী?
- ৫ লক্ষ টাকার চুক্তি: অভিযোগকারীর দাবি, সেচ দফতরের বাংলোতে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
- বেতন প্রাপ্তি ও চাকরিচ্যুতি: কথামতো অভিযোগকারীর স্ত্রী চাকরি পেয়ে মার্চ মাসের বেতন হিসেবে প্রায় ১১ হাজার টাকা পান এবং খাতায় সইও করেন। কিন্তু গত ৬ মে তিনি কাজে গেলে তাঁকে আর রেজিস্টারে সই করতে দেওয়া হয়নি।
- মানসিক হয়রানি: আচমকা চাকরি থেকে বাদ পড়ায় ওই মহিলাকে চরম কটূক্তি ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ, আতঙ্কে মানস:
এই ঘটনার পরই সবং থানায় প্রাক্তন সেচমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩১৮(৪) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সবং থানার পুলিশ। পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারির জোরালো আশঙ্কার কারণেই এবার তড়িঘড়ি রক্ষাকবচ চেয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলেন মানস ভুঁইঞা।