নবান্নে বড় চমক! বাজেটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জোড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রস্তাব এডিবির

নবান্নে বড় চমক! বাজেটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জোড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রস্তাব এডিবির

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের দেড় মাসের মাথায় বিধানসভায় প্রথম বাজেট পেশ করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আর সেই বাজেট পেশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নবান্নে শুরু হয়ে গেল জোর তৎপরতা। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (এডিবি) শীর্ষ কর্তারা। রাজ্যের নতুন বাজেটে শিল্পের যে দিশা দেখানো হয়েছে, তাকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতেই মেগা পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছে এডিবি।

জোড়া ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ গড়ার ব্লু-প্রিন্ট

নীতি আয়োগের রূপরেখা মেনে দেশে ইতিমধ্যেই সুরাত, বারাণসী, বিশাখাপত্তনম ও ভুবনেশ্বর—এই চারটি শহরকে কেন্দ্র করে ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ বা সিইআর গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। সেই সফল মডেলকে সামনে রেখেই এবার পশ্চিমবঙ্গে অন্তত দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রস্তাব নবান্নের টেবিলে দিয়েছে এডিবি। মূলত কলকাতা মেট্রোপলিটন, শিলিগুড়ি, হলদিয়া-দিঘা এবং দুর্গাপুর-আসানসোল—এই চারটি সম্ভাব্য হাবের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যে কোনও দু’টিকে বেছে নিতে পারে রাজ্য সরকার। এই মডেল বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট পৌরসভার সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা, শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক এবং শ্রমবাজার একটি সমন্বিত অর্থনীতির ছাতার তলায় আসবে।

বিনিয়োগ টানতে ছয় দফা রোডম্যাপ

শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলই নয়, রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলতে একটি সুনির্দিষ্ট ছয় দফা রোডম্যাপও পেশ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা-ডানকুনি-দুর্গাপুর কিংবা হলদিয়া-খড়গপুরের মতো একাধিক শিল্প করিডর তৈরি এবং ই-কমার্স বিনিয়োগ টানতে ডানকুনি, শিলিগুড়ি ও হলদিয়াকে আধুনিক মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলা। এছাড়া, বায়ুদূষণ রোধে ইলেকট্রিক বাসের ব্যবহার বাড়িয়ে আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সস্তায় সব সুযোগ-সুবিধাযুক্ত আবাসন তৈরি এবং বারাণসী মডেলের আদলে রাজ্যের চার প্রান্তে (উত্তরবঙ্গ, কোস্টাল বেল্ট, সুন্দরবন ও হেরিটেজ অঞ্চল) পর্যটন ক্লাস্টার তৈরির ব্লু-প্রিন্ট দেওয়া হয়েছে।

বাজেট পেশের অব্যবহিত পরেই নবান্নের এই তৎপরতা প্রমাণ করে, নতুন সরকার রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর এবং সেই নীতিগত স্বচ্ছতার কারণেই এডিবি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা বিনিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে এগিয়ে এসেছে। প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে যেমন লজিস্টিকস ও পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে, তেমনই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *