সুরক্ষার স্মার্ট লকই কি অগ্নিকাণ্ডে মরণফাঁদ হয়ে উঠছে

আধুনিক জমানায় ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চোর-ডাকাত রুখতে বায়োমেট্রিক বা স্মার্ট লকের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। আঙুলের আলতো ছোঁয়া কিংবা মোবাইল অ্যাপের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত এই স্বয়ংক্রিয় লক ব্যবস্থা আপাতদৃষ্টিতে পরিবারকে নিশ্চিন্ত রাখলেও অগ্নিকাণ্ডের মতো চরম বিপদে তা বড় মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক লখনউ, দিল্লি বা ইন্দোরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এই নির্মম ও জ্বলন্ত সত্যকে সবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক বহুতল বা ফ্ল্যাটের সুরক্ষায় মূলত চুরি-ডাকাতি ঠেকানোর কথা মাথায় রাখা হলেও বিপর্যয় মোকাবিলার পথ সেখানে চরম অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
ডিজিটাল লক অকেজো হওয়ার কারণ
অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুন লাগলে লেলিহান শিখার চেয়েও আগে ছুটে আসে বিষাক্ত ধোঁয়া আর তীব্র তাপ। ঘরের মেঝেতে যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, মাথার উচ্চতায় তা নিমেষের মধ্যে ৬০০ ডিগ্রিতে পৌঁছোয়। এই চরম উত্তাপে স্মার্ট লকগুলির অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও সেন্সর পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। শর্ট সার্কিট হয়ে গলে যায় ভেতরের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে অনেক সময় ব্যাক-আপ ব্যবস্থাও কাজ করে না। অন্যদিকে চরম আতঙ্কের মুহূর্তে আটকে পড়া মানুষজন পাসওয়ার্ড বা ইমার্জেন্সি ওভাররাইড কোড ভুলে যান, ফলে সুরক্ষিত দরজা আর খোলে না।
বাস্তব চিত্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
লখনউয়ের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে স্বয়ংক্রিয় লক ব্যবস্থা না খোলায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দেওয়াল ভেঙে সেখানে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়েছিল। দিল্লির বিবেক বিহার বা ইন্দোরের ঘটনাতেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহার এবং জীবনদায়ী সচেতনতার অভাব। দামি সিসিটিভি ক্যামেরা বা সুরক্ষায় মোড়া লক কিনতে বিপুল টাকা খরচ করা হলেও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে বাঁচতে হবে, তা নিয়ে পরিবার বা আবাসনে কোনো মহড়া দেখা যায় না। এই উদাসীনতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।