ইউক্রেনের ডাইনি বাহিনীর প্রেমের ফাঁদে রুশ জওয়ানরা

ইউক্রেনের ডাইনি বাহিনীর প্রেমের ফাঁদে রুশ জওয়ানরা

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমীকরণ এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সম্মুখ সমরের বদলে প্রযুক্তি, বুদ্ধিমত্তা এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো অভিনব কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে কিয়েভ। এই নয়া রণকৌশলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের বিশেষ মহিলা গুপ্তচর দল, স্থানীয় ভাষায় যাদের বলা হচ্ছে ‘ভিডমা’ বা ডাইনি বাহিনী। ইউক্রেনীয় লোকগাঁথায় ‘ভিডমা’ বলতে বোঝায় বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী নারীদের। বর্তমানে এই নারীদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং নিখুঁত গুপ্তচরবৃত্তির কারণে রণাঙ্গনে পদে পদে নাজেহাল হতে হচ্ছে রুশ বাহিনীকে।

প্রেমের ফাঁদ ও নিখুঁত গুপ্তচরবৃত্তি

রুশ অধিকৃত এলাকাগুলো থেকে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে এই বাহিনী এক অভাবনীয় পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা ছলনাময়ী সুন্দরীর বেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা সরাসরি রুশ জওয়ানদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। এমনই এক ঘটনায় এক নিঃসঙ্গ ইউক্রেনীয় গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক পাতিয়েছিলেন এক রুশ সেনা। গল্পের ছলে ছবি আদানপ্রদানের সময় ওই জওয়ান নিজের এমন একটি ছবি পাঠান, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে মানচিত্রের একাংশ দৃশ্যমান ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ওই নির্দিষ্ট অবস্থানে নির্ভুল ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। শুধু প্রেমের ফাঁদই নয়, এই মহিলারা রাশিয়ায় বা রুশ অধিকৃত অঞ্চলের হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মীর ছদ্মবেশে কাজ করে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে লক্ষ্যবস্তুর নিখুঁত নকশা ও অবস্থান পাঠাচ্ছেন।

যুদ্ধের নয়া কৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

পুরুষদের পক্ষে সন্দেহ এড়িয়ে যেসব জায়গায় পৌঁছানো কঠিন, সেখানে অনায়াসেই প্রবেশ করছেন এই মহিলারা। ২০১৪ সাল থেকেই মহিলাদের আত্মরক্ষা ও যুদ্ধের কৌশল শেখানো শুরু হয়েছিল, যা আজ রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার অন্যতম শক্তিশালী ভিত হয়ে উঠেছে। এই ডাইনি বাহিনীর মূল লক্ষ্য শুধু তথ্য সংগ্রহ বা শত্রুদের ধ্বংস করা নয়, বরং রুশ সেনাদের মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দেওয়া। ক্রমাগত এই ধরনের চোরাগোপ্তা ফাঁদ এবং গুপ্তচরবৃত্তির ফলে রুশ বাহিনীর মধ্যে গভীর ভীতি ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরোধের উদ্দেশ্যই হল, তাদের মাটিতে পা রাখা প্রতিটি রুশ সেনা যেন বাজারের সাধারণ বয়স্ক মহিলা, বাসচালক বা চিকিৎসকের মধ্যেও নিজের মৃত্যু দেখতে পায় এবং সারাক্ষণ চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *