মমতা না ঋতব্রত, অনুব্রতর রহস্যময় মন্তব্যে বীরভূমের রাজনীতিতে জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল আসলে কোন দিকে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটের তৃণমূল নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’, এই প্রশ্নে নিজের অবস্থান নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন তিনি নিজেই। তিনি জানিয়েছেন যে নতুন-পুরনো বা পক্ষ-বিপক্ষ তিনি বোঝেন না, জন্মলগ্ন থেকেই তিনি দলেই আছেন। তবে ঠিক কোন শিবিরের প্রতি তাঁর আনুগত্য, সেই বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরে বীরভূমের নেতাদের ভিড়
অনুব্রতর এই রহস্যময় অবস্থানের মাঝেই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতিতে বীরভূমের চার পরিচিত মুখ জায়গা করে নিয়েছেন। চন্দ্রনাথ সিনহা, কাজল শেখ এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ঋতব্রত শিবিরের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি সমস্ত জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়ায় বীরভূমে বর্তমানে শাসকদলের কোনও আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী নেই। এই সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে নব্য তৃণমূলের নেতারা নিজেদের মতো করে নতুন জেলা কমিটি গঠনের রূপরেখা তৈরি করছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা এবং বিপদের দিনে পাশে না দাঁড়ানোর তীব্র ক্ষোভ থেকেই এই শিবির বদল বলে দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।
দলের অন্দরে ক্ষোভ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দলের এই প্রকাশ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের একাংশের দলত্যাগের ফলে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছে। নব্য তৃণমূল নেতারা গঠনতন্ত্র মেনে সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল স্তরের কর্মী ও গ্রামীণ ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। বীরভূমের মতো একসময়ের শক্ত ঘাঁটিতে এই আড়াআড়ি বিভাজন আগামী দিনে শাসকদলের সাংগঠনিক শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এই অন্তর্দ্বন্দ্বকে আমল দিতে নারাজ। তাদের দাবি, জনসমর্থন এখন তাদের দিকেই, ফলে তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে তারা চিন্তিত নয়।