তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভাঙল নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ, মৃত্যুভয়ে আটকে বহু শ্রমিক!

তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভাঙল নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ, মৃত্যুভয়ে আটকে বহু শ্রমিক!

বুধবার দুপুরে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী হল তারাতলা। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের বিশাল ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক। ইতিমধ্যেই একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং একাধিক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও দমকলের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে ভারতীয় সেনাকে।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। ক্রেন এবং গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার বিম কেটে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত আটজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে পুলিশ, দমকল এবং সেনা একসঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল।

বিপর্যয়ের নেপথ্যে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ

বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা লিজ নিয়ে এই গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কোনো উপযুক্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। দুর্বল ঢালাই ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারই এই ভয়াবহ পরিণতির মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণের অনুমতি ও বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানো নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা ঘিরেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এই চূড়ান্ত গাফিলতির জেরে নিরীহ শ্রমিকদের প্রাণহানির পাশাপাশি শহরের অন্যান্য নির্মাণকাজের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও জনমানসে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের নির্মাণকাজে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *