তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে মৃত্যু ৩ শ্রমিকের, স্থগিত কলকাতার সব নির্মাণকাজ!

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি পাঁচতলা চায়ের গুদামের একাংশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বড়সড় বিপত্তি ঘটল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৮ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২২ জনকে উদ্ধার করে গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী এবং ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী, অপর একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহতদের বয়স ২১ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে। বর্তমানে জেসিবি ও গ্যাসকাটার দিয়ে লোহার ভারী বিম কেটে আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
নড়বড়ে কাঠামো এবং ত্রুটিপূর্ণ নকশাই কাল
কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি লিজ নিয়ে একটি চা প্রস্তুতকারক সংস্থা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এই বিশাল গুদামটি নির্মাণ করছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই নির্মীয়মাণ বহুতলটির মূল লোহার কাঠামো বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। সেই নড়বড়ে কাঠামোটি পরখ করে দেখতে দুপুরে কয়েকজন শ্রমিক নির্দিষ্ট অংশের নীচে জড়ো হতেই বিকট শব্দে পুরো কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টেও এই নির্মাণের নকশায় গুরুতর ত্রুটি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নকশায় গলদের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে শহরের প্রতিটি নির্মাণস্থলে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট চালানো হবে। এই নির্দেশের ফলে সাময়িকভাবে শহরের বুকে আবাসন ও বাণিজ্যিক নির্মাণ থমকে গেলেও, উপযুক্ত নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।