পাসপোর্ট থাকলেই আপনি ভারতের নাগরিক নন! বিদেশ মন্ত্রকের বড় ঘোষণা

পাসপোর্ট থাকলেই আপনি ভারতের নাগরিক নন! বিদেশ মন্ত্রকের বড় ঘোষণা

নয়াদিল্লি: আপনার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট আছে মানেই কি আপনি ভারতের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক? বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, উত্তরটি হলো— না! ১৪তম পাসপোর্ট সেবা দিবসে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পাসপোর্ট কেবলই বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে সরকার প্রদত্ত একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট (ভ্রমণ নথি), এটি কোনোভাবেই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

পাসপোর্টের শেষ পাতায় স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে এটি “ভারত সরকারের সম্পত্তি” এবং সরকার নির্দেশ দিলে তা জমা দিতে বাধ্য থাকবেন গ্রাহক। যেহেতু পাসপোর্ট শুধু ভারতীয়দেরই দেওয়া হয়, তাই মন্ত্রকের এই ঘোষণায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নাগরিকত্বের প্রমাণ কী?

কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কী হবে?

  • আধার কার্ড: চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, এটি শুধুই একটি সচিত্র পরিচয়পত্র।
  • ভোটার আইডি: একইভাবে ভোটার কার্ডকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য করা হয় না। এটি মূলত পরিচয়, বাসস্থান এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি আইনি নথি।

ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের নিয়ম কী বলছে?

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আইনে বেশ কিছু নির্দিষ্ট সময়কাল বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭: এই সময়ের মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী যে কেউ জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক।
  • ১ জুলাই ১৯৮৭-এর পর: এই সময়ের পর জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের মধ্যে অন্তত একজনকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
  • ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পর: এই সময়ে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনকেই ভারতীয় হতে হবে। অথবা একজনকে ভারতীয় হতে হবে এবং অপরজনকে অবশ্যই বৈধ অভিবাসী হতে হবে।

পাসপোর্ট সেবায় রেকর্ড গড়ল ভারত

নাগরিকত্ব প্রমাণের বিতর্কের মাঝেই দেশের পাসপোর্ট পরিষেবা নিয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য এবং ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA):

  • রেকর্ড পরিষেবা: ২০২৫ সালে ১.৫ কোটি পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু নতুন পাসপোর্টই দেওয়া হয়েছে ১.৩৯ কোটি।
  • দ্রুত পরিষেবা: প্রসেসিংয়ের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দিলে বর্তমানে মাত্র ৬টি কর্মদিবসের মধ্যেই পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে।
  • সময় সাশ্রয়: নাগরিকরা এখন পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রগুলিতে (PSK) গড়ে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করেন।
  • কেন্দ্র বৃদ্ধি: এক দশক আগে দেশে যেখানে মাত্র ৭৭টি পাসপোর্ট কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে তা কয়েকগুণ বেড়ে সারা দেশে ৫৪৫টি কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও চিপ-যুক্ত ই-পাসপোর্টের (e-Passport) প্রচলনও সফলভাবে শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *