‘কংক্রিটে আটকে হাত, ঝুলছে দেহ!’ তারাতলা বিপর্যয়ের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী
কলকাতা: আচমকা বিকট শব্দ, আর চোখের পলকেই আস্ত একটা ছাদ মাটিতে! তারাতলায় গুদামের নির্মীয়মাণ ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় এমনই শিউরে ওঠা দৃশ্যের সাক্ষী হলেন সাদ্দাম কুরেশি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী। চোখের সামনে দেখা মৃত্যুর সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।
মৃত্যুফাঁদের শিউরে ওঠা দৃশ্য:
তখনও কোনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছয়নি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন সাদ্দাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে গোডাউন চত্বরের দিকে ছুটে যান তাঁরা। ভেতরে ঢুকে যা দেখলেন, তাতে রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়!
- ঝুলন্ত দেহ: সাদ্দাম জানান, বেঁকে যাওয়া কংক্রিটের মাঝে আটকে আছে একটি হাত, আর বাকি নিথর দেহটা শূন্যে ঝুলছে! একটু দূরে চোখ ঘোরাতেই দেখেন একইভাবে ঝুলছে আরও একটি দেহ।
- জীবিত ও মৃতের স্তূপ: দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার বিম আর ভাঙা কংক্রিট পেরিয়ে একটু এগোতেই তিনি দেখেন, একজনের মৃতদেহের নিচে চাপা পড়ে আছেন অন্য এক শ্রমিক। উপরের মৃতদেহটির কোমর পর্যন্ত কংক্রিটের নিচে চাপা। আর তার নিচে আটকে থাকা জীবিত শ্রমিকটি কথা বলার অবস্থায় নেই, শুধু বাঁচার আশায় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।
অন্ধকার আর গোঙানির আওয়াজ:
পুরো ছাদটা যেন হাওয়ায় উড়ে আসা কাপড়ের মতো মাটিতে পড়েছিল। চারদিক প্রায় অন্ধকার, শুধু ফাটল দিয়ে আসা সামান্য আলোই ভরসা। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তখন শুধু ভেসে আসছে বাঁচার তীব্র আর্তি আর গোঙানির আওয়াজ। কিন্তু আটকে পড়া মানুষদের কাছে একটু জল পৌঁছে দেওয়ারও কোনও উপায় ছিল না।
অসহায়তা ও উদ্ধারকাজ শুরু:
ভারী কংক্রিট সরানো সাদ্দাম বা তাঁর বন্ধুদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে সাদ্দাম নিজেও ডান হাতে চোট পান। অসহায়তার মাঝেই তাঁর এক বন্ধু দমকলে খবর দেন। এরপর একে একে পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ছ’টি দপ্তরের সমন্বয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
বন্দর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দামের কথায়, “ছোটখাটো দুর্ঘটনা অনেক দেখেছি, কিন্তু আজ চোখের সামনে যে বীভৎস দৃশ্য দেখলাম, তা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভুলতে পারব না।”