বিজেপির হুমকিতে আত্মঘাতী তৃণমূল নেতা! ২৩ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
বর্ধমান: রাজনৈতিক রেষারেষি এবং তোলাবাজির জেরে এক মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী হলো বর্ধমান। স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৩ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, সেই বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে না পারার মানসিক চাপ এবং অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূল নেতা স্বরূপ রানা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ।
কী ঘটেছিল?
স্বরূপ রানা বাঘার–১ পঞ্চায়েতের জগাদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং জগদাবাদ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির কর্মী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের ব্লক কমিটির সদস্য এবং প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সমবায় অফিসেই তিনি বিষপান করেন। তাঁকে তড়িঘড়ি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:
মৃতের ভাই শ্যামল এবং স্ত্রী রেবা রানার দাবি, স্বরূপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁদের মূল অভিযোগগুলি হলো:
- মারধর ও বিপুল জরিমানা: সোমবার রাতে স্থানীয় বিজেপি অফিসে স্বরূপকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়, যা পরে জোর করে ২৩ লক্ষ টাকায় রফা করা হয়।
- পরিবারকে হুমকি: টাকা না দিলে স্বরূপের স্ত্রী ও দশ বছরের মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। জোর করে একটি মুচলেকাতেও সই করিয়ে নেওয়া হয়।
- মানসিক চাপ: এই চরম ভয়, অপমান এবং হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। এমনকি, এলাকার প্রতিবেশীরাও স্বরূপের অত্যন্ত শান্ত ও পরোপকারী স্বভাবের কথা স্বীকার করেছেন।
কী বলছে বিজেপি?
এই ঘটনায় পদ্ম-শিবিরকে কাঠগড়ায় তোলা হলেও, পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এর তীব্র নিন্দা করেছে। তাঁদের সাফ দাবি, এটি দলের আদর্শ কর্মীদের কাজ নয়, বরং রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর যাঁরা দলে ঢুকেছেন, সেই ‘তৎকাল বিজেপি’-র নেতারাই এর পেছনে রয়েছে।
- ‘তৎকাল বিজেপি’ তত্ত্ব: বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার সাউ জানান, ৪ জুনের পর যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, তারাই এই তোলাবাজির সঙ্গে জড়িত। দলের তরফ থেকে কাউকে ছাড়া হবে না।
- নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: জেলা মুখপাত্র কল্যাণকুমার মাঝি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সালিশি সভা বসিয়ে জরিমানা করা তাঁদের দলের রীতি নয়। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছেন।
দেওয়ানদিঘি থানায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।