তারাতলা বিপর্যয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ‘কালী’! কে এই ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ রহস্যময় অফিসার?

তারাতলা বিপর্যয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ‘কালী’! কে এই ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ রহস্যময় অফিসার?

কলকাতা: তারাতলার গুদাম বিপর্যয় নিয়ে এবার বিধানসভায় বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত তৃণমূল জমানার দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে তিনি ‘কালী’ নামের এক রহস্যময় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভরা বিধানসভায় একটি ফাইল উঁচিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান পাশ হয় না।” এরপর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড়— কে এই কালী?

মুখ্যমন্ত্রী পুরো নাম খোলসা না করলেও সূত্রের খবর, এই ব্যক্তির আসল নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) ছিলেন। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কলকাতা পুরসভার নিয়োগ, টেন্ডার বণ্টন কিংবা বেআইনি বহুতলের নকশা পাসের নেপথ্যে এই ‘কালী সিন্ডিকেট’-এর নামই বারবার উঠে এসেছে।

কে এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত চতুর ও মেধাবী অফিসার হিসেবেই পরিচিত এই কালীচরণ। তাঁর উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য এক অতীত—

  • মেধাবী আমলা: ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় বসে তিনি রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে কর্মজীবন শুরু করেন।
  • পুলিশের চাকরি ত্যাগ: ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষাতেও তিনি রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণ চলাকালীনই তিনি সেই চাকরি ছেড়ে ফের ভূমি রাজস্ব দফতরে ফিরে যান।

ফিরহাদের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে উত্থান:

২০১০ সাল নাগাদ প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় ডেপুটেশনে আসেন কালীচরণ। সেই সময় থেকেই তৎকালীন প্রভাবশালী মেয়র পারিষদ ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। দীর্ঘ আট বছর তিনি পর্দার আড়ালে থেকে ফিরহাদের সমস্ত কাজ সামলেছেন।

২০১৮ সালের শেষে শোভন চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করার পর ফিরহাদ হাকিম যখন কলকাতার মেয়র হন, তখন পরিস্থিতি আরও বদলায়। শোনা যায়, ‘ক্যামাক স্ট্রিটের’ বিশেষ নির্দেশে কালীচরণকে কলকাতা পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজের ওএসডি করে নিয়ে আসেন ফিরহাদ। এরপর থেকে পুরসভার অন্দরে তাঁর কথাই নাকি শেষ কথা ছিল। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীনও এই ‘কালী সিন্ডিকেট’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন, তবে সেসময় ফিরহাদ হাকিম তাঁকে আড়াল করেছিলেন।

তদন্তে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি:

ছাব্বিশের পালাবদলের পর তারাতলার এই ভয়াবহ বিপর্যয় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ঘটনার শেকড় অবধি পৌঁছতে কালীচরণকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। বিগত পুরবোর্ডের সমস্ত বেআইনি প্ল্যান পাসের কেলেঙ্কারি সামনে আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা ভাবছেন সব দায় এড়াব, তাঁদের জানিয়ে রাখি কাউকে ছাড়া হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *