কম্পনের আগেই ফোনে অ্যালার্ট! ভেনেজুয়েলায় প্রাণ বাঁচিয়ে হিরো ‘গুগল’

কম্পনের আগেই ফোনে অ্যালার্ট! ভেনেজুয়েলায় প্রাণ বাঁচিয়ে হিরো ‘গুগল’

লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা। এখনও পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৭০০ জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে এই চরম ধ্বংসলীলার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি চমৎকার ঘটনা— শক্তিশালী এই কম্পন আঘাত হানার কয়েক মুহূর্ত আগেই সেখানকার বহু মানুষের স্মার্টফোনে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট পাঠিয়েছিল টেক জায়ান্ট গুগল (Google)!

এক্স (X) হ্যান্ডলে অনেকেই গুগলের পাঠানো সেই ‘আর্থকোয়েক নোটিফিকেশন’-এর স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভূমিকম্প আসার আগেই গুগল কী করে টের পেল?

স্মার্টফোনই যখন ভূকম্পন মাপক যন্ত্র

আপনার পকেটে থাকা স্মার্টফোনের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে এই ম্যাজিক। প্রতিটি আধুনিক স্মার্টফোনে ‘অ্যাক্সেলেরোমিটার’ (Accelerometer) নামের একটি বিশেষ সেন্সর থাকে। মূলত ফোনটি কাত করলে স্ক্রিন ঘোরাতে সাহায্য করা এই সেন্সরের কাজ হলেও, এটি মাটির নিচের সূক্ষ্ম কম্পনও শনাক্ত করতে পারে। কম্পন টের পেলেই এটি দ্রুত গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম’-এ (Android Earthquake Alerts System) লোকেশন-সহ একটি বিশেষ সিগন্যাল পাঠিয়ে দেয়।

বিজ্ঞানের যে কৌশলে কাজ করে এই সিস্টেম

ভূমিকম্পের কম্পন মূলত ঢেউ বা তরঙ্গের আকারে ছড়ায়। এর প্রধান দুটি ভাগ রয়েছে:

  • প্রাথমিক তরঙ্গ বা ‘পি-তরঙ্গ’ (P-wave): এর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত দ্রুতগামী হলেও তেমন কোনও ক্ষতি করে না।
  • সেকেন্ডারি তরঙ্গ বা ‘এস-তরঙ্গ’ (S-wave): এর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩-৪ কিলোমিটার। এটি ধীরগতির হলেও, মূলত এই তরঙ্গের আঘাতেই বাড়িঘর ভেঙে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

আলোর গতিতে জীবনদায়ী সতর্কতা

স্মার্টফোনের সেন্সর মূলত প্রথম ধেয়ে আসা ক্ষতিহীন ‘পি-তরঙ্গ’টিকে ধরে ফেলে। শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই আলোর গতিতে সেই ডেটা গুগলের সার্ভারে চলে যায়। ফলে ধ্বংসাত্মক ‘এস-তরঙ্গ’ বা প্রধান ঝাঁকুনি আসার আগেই গুগল পুরো বিষয়টি যাচাই করার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়ে যায় এবং দ্রুত ওই অঞ্চলের সমস্ত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর ফোনে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়।

প্রযুক্তির এই জাদুবলেই ভেনেজুয়েলায় বহু মানুষ মূল কম্পন আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা এখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *