মাইক বন্ধ থেকে মোবাইল কাড়াকাড়ি! বিধানসভার অন্দরের অভিজ্ঞতায় বিস্ফোরক হিরণ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগলেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার অন্দরে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে কীভাবে দমানোর চেষ্টা করা হতো, তা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি।
কী অভিযোগ হিরণের?
অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিরণ দাবি করেন, গত কয়েক বছর বিধানসভায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বচ্ছতার চরম অভাব ছিল। বিরোধী বিধায়কদের কথা বলার অধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে। হিরণের কথায়, “আগে তো এই বিধানসভাতে সব কিছু লুকিয়ে লুকিয়ে হত। অনেক সময় আমার বক্তব্য রাখার সময় মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।”
তাঁর দাবি, বিরোধীদের ওপর কেবল মানসিক নয়, শারীরিক চাপও প্রয়োগ করা হতো। এক সময় বিরোধী বিধায়কদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অবলুপ্ত করতে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ:
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করে হিরণ জানান, একবার বিধানসভার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভিডিওবন্দি করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর হাত থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। তাঁর কথায়, “অনেক কিছু হয়েছে, যা বন্ধ দরজার আড়ালে রাখা হয়েছিল। বাইরে কেউ তা জানতেও পারেনি।”
অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হিরণ। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছর বিধানসভায় গণতন্ত্রের নামগন্ধ ছিল না, তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে এবং গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। হিরণের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।