তারাতলা বিপর্যয়ে বিপাকে ফিরহাদ! বিধানসভায় ‘বেআইনি’ বিল্ডিং প্ল্যান ফাঁস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় এবার সরাসরি প্রাক্তন তৃণমূল সরকার এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘পূর্বতন সরকারের পাপের ফল’ বলে তোপ দাগেন তিনি। বেআইনি ওই বিল্ডিং প্ল্যানে ফিরহাদ হাকিম-সহ পুরসভার একাধিক আধিকারিকের সই রয়েছে বলে দাবি করে বিধানসভাতেই সেই নথি পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘টাকা খেয়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছেন!’
এদিন বিধানসভায় বিরোধী আসনে বসে থাকা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল (ঋতব্রত গোষ্ঠী) বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকে আঙুল তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মূল অভিযোগগুলি হলো:
- দুর্নীতির অভিযোগ: “টাকা নিতে নিতে বৃহত্তর কলকাতাকে আপনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। গোটা রাজ্যের সর্বনাশ করেছেন।”
- নথিতে সই প্রমাণ: বিল্ডিং প্ল্যানের একটি কপি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, নির্মলেন্দু সরকার, রঞ্জন দাস এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে এই ত্রুটিযুক্ত প্ল্যানে। এরকম কত কাণ্ড যে করে রেখেছেন কে জানে!”
- পূর্বতন সরকারের গাফিলতি: গার্ডেনরিচ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ১৪ জন মারা গিয়েছিলেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিতেন। তাঁদের একজনকেও আপনারা বাঁচাতে পারেননি। আগের সরকারের কাছে লোহার বিম কাটার মতো একটা সাধারণ যন্ত্র পর্যন্ত ছিল না।”
তৎপরতা ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার বিপর্যয়ের খবর মেলার ৩০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং স্থানীয়দের পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ (NDRF) ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে হাত লাগায়। এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হতাহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করা হয়:
- নিহতদের পরিবারকে: ১০ লক্ষ টাকা।
- আহতদের প্রত্যেককে: ১ লক্ষ টাকা।
গ্রেফতার ৫, তদন্তে ‘জিরো টলারেন্স’
তারাতলা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে প্রভাবশালী প্রোমোটার আসগর খানের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিললেও, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আসগরকে খুঁজছি। আমি চাই সে জীবিত অবস্থাতেই বেরিয়ে আসুক এবং শাস্তির মুখোমুখি হোক।”
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মানুষের জীবন নিয়ে কোনওরকম আপস বরদাস্ত করা হবে না। শহরের সমস্ত সন্দেহজনক বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।