৫০ বছর পর এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থা! বলা হল গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

৫০ বছর পর এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থা! বলা হল গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্ণ হল। আর এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই প্রথমবার ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে স্থান পেল দেশের ইতিহাসের এই বিতর্কিত অধ্যায়টি। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় সমাজবিজ্ঞানের বইতে বদল এনে জরুরি অবস্থাকে ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ে নতুন সংযোজন ও প্রেক্ষাপট

এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র এনসিইআরটির দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থার উল্লেখ থাকলেও, এবার তা নবম শ্রেণির ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি’ বইতেও সংযোজিত হল। বইটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সত্তরের দশকে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের জেরে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে বিহার ও গুজরাটের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলনের কথাও এই পাঠ্যবইটিতে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

১৯৭৫ সালের জুন মাসে জারি করা এই জরুরি অবস্থার কারণে কীভাবে দেশের নাগরিকদের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রবল চাপের মুখে পড়েছিল, তা নতুন পাঠ্যক্রমে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই সময়টিকে সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এই বিষয়টির অন্তর্ভুক্তির ফলে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর শক্তি, নাগরিক স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং অতীত ইতিহাসের সংকটময় অধ্যায়গুলি সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *